kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

কঠোর লকডাউনের চিন্তা

বিধি-নিষেধ মেনে চলার বিকল্প নেই

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনভাইরাসে আবার বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। গত বছরের শেষ দিকে সংক্রমণের গতি কমতে থাকায় অনেকের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব চলে এসেছিল। গত বছর মার্চের শেষ দিক থেকে মে মাস পর্যন্ত ছিল সাধারণ ছুটি। তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে আর সবই খুলতে শুরু করে ধীরে। চলতি বছরের শুরুতে দৈনিক সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসার পর আমরা করোনাজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও অনেক অগ্রসর হওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সব পরিকল্পনা ওলট-পালট করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি রেকর্ড হয়েছে মৃত্যুর সংখ্যায়। শনাক্তের সূচকে আগের রেকর্ড ভেঙে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। গত বৃহস্পতিবারের হিসাবে এক দিনে করোনায় আক্রান্ত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ছয় হাজার ৮৫৪ জন। এর আগে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, যা ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। করোনাভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত লকডাউন দেয় সরকার। সারা দেশে শপিং মল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বুধবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা এবং শুক্রবার থেকে দোকানপাট চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। এখন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার জনস্বার্থে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘লকডাউনে’ গণপরিবহন এবং দোকানপাট, শপিং মল বন্ধ থাকবে।

ওদিকে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি গত বুধবার রাতে কমিটির ৩০তম সভার পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সারা দেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ কারণে বিধি-নিষেধ আরো শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার।

গত বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ লকডাউন করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মানুষকে ঘরে রাখার কৌশল খুব একটা কাজে আসেনি। কাজেই এবার আরো সতর্কতার প্রয়োজন। কঠোরভাবেই লকডাউন মেনে চলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।



সাতদিনের সেরা