kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

হেফাজতের তাণ্ডব

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক

৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেফাজতের তাণ্ডব

দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে গত মার্চের মধ্যভাগ থেকে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের পরিপন্থী। একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মুন্সীগঞ্জে ধর্মের নামে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘...বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র হবে, রাষ্ট্রের স্তম্ভ কোনো ধর্মীয় কাঠামো দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হবে না।’ বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।’ ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে ফেলা হয়েছিল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের একটি মৌলিক মতবাদ হিসেবে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। মহান জাতীয় সংসদে এই বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এরা ইসলাম ধর্মের নামে কলঙ্ক। ইসলামকে তারা ছোট করে দিচ্ছে। কিছু লোকের জন্য আজকে এই ধর্মটা জঙ্গির নাম, সন্ত্রাসের নাম। এখন তো যেই চরিত্র দেখাল, তাতে দুশ্চরিত্রের নামও জুড়ে দিচ্ছে। তার মানে আমার যে পবিত্র ধর্ম, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম, যে ইসলাম ধর্ম সহনশীলতা শিখিয়েছে, শান্তির কথা বলেছে, সাধারণ মানুষের কথা বলেছে, মানুষের উন্নয়নের কথা বলেছে, সেই পবিত্র ধর্মকে এরা কলুষিত করে দিচ্ছে।’ শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে জ্বালাও-পোড়াও কিভাবে সম্ভব, সে প্রশ্নও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ধর্মাশ্রয়ী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এক দিনে তো মাঠে নামেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলেরও জানা আছে, হীন স্বার্থে এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে অর্থেরও জোগান দেওয়া হয়। কারা এদের অর্থের জোগানদাতা, তা জানা আবশ্যক। আশার কথা, ২৪ হেফাজত নেতা ও ৩০টি মাদরাসার অর্থের উৎস কী, তা জানতে ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

কারা দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, কারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা চায়, তাদের পরিচয় এখন স্পষ্ট। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, সাম্প্রতিক তাণ্ডবের সঠিক তদন্ত হবে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য