kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ভয়ংকর কিশোর অপরাধ

কঠোর ব্যবস্থা নিন

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে খেলার কথা, সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা—সেই বয়সের কিশোররা এখন ছুরি-চাকু, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মাস্তানি করে, মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। রাস্তাঘাটে ছিনতাই করে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। বাধা দিলে রক্তারক্তি, খুুনাখুনি করে। উত্তরা, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরা গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। শুধু রাজধানী কেন, সারা দেশেই এদের বেপরোয়া উত্থান লক্ষ করা যায়। মাঝেমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অভিযান চালালেও কিশোর অপরাধ কমছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিশোরদের একটি অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় তারা। খুন, ধর্ষণ, মাদক চোরাচালান, মাদক সেবনসহ সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনা কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। শবেবরাতের রাতে পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর লালকুঠি ঘাটের ১১ নম্বর কাউন্টারের সামনের ফুটপাতের সামনে ছুরিকাঘাতে খুন হয় ফেরদৌস নামের এক কিশোর। এর কয়েক দিন আগে ওয়ারী এলাকায় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে দুজন মারাত্মক আহত হয়। পুলিশের তথ্য থেকে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রতি মাসে যেসব হত্যার ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগ ঘটনায় কিশোর অপরাধীরা জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। ২০১৮ সাল থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে হওয়া ৩৬৩টি ছিনতাইয়ের নেপথ্যেও ছিল কিশোর অপরাধীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান ছিনতাইকারীদের বড় অংশই কিশোর। তারা ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, শ্লীলতাহানিতেও জড়িত। পুলিশের তথ্য মতে, গত ১৭ বছরে ঢাকায় কিশোর অপরাধীদের হাতে ১২০ জন খুন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বা তথ্য-প্রযুক্তি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন তাঁরা।

পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সঠিক পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ কিশোর অপরাধ কমাতে অনেক সাহায্য করবে। কিশোররা অপরাধমূলক ঘটনায় কম জড়াবে। সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও কঠোর হতে হবে।

মন্তব্য