kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

আমলাদের গাড়িবিলাস

প্রকল্পের গাড়ি উদ্ধার করা হোক

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমলাদের গাড়িবিলাস

নীতি, আদর্শ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা, দেশপ্রেম—এগুলো যেন কেবলই কথার কথা। অন্তত এ দেশের আমলাতন্ত্রের দিকে তাকালে তেমনটাই মনে হয়। অথচ এই আমলাতন্ত্রের ওপরই দেশের উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভর করে। প্রশাসন যেন ঠিকমতো কাজ করে, অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়েছে কি? সম্ভবত না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অধঃপতনের মাত্রা আরো বেড়েছে। সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গাড়ি সরকারি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এই নিয়ম মানছে না। গত ১০ বছরে অনেকবারই প্রকল্পের গাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু খুব একটা লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত প্রকল্পের সব গাড়ি উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসেছে। সমাপ্ত প্রকল্প ধরে ধরে গাড়ি উদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের অত্যধিক গাড়িবিলাস এবং গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের অপচয় নিয়ে অনেক দিন ধরেই পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। সেই অপচয় রোধ করার লক্ষ্যে সরকার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেই গাড়ি পাওয়ার পরও সরকারি গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার কমছে না। জ্বালানি তেল নিয়ে দুর্নীতিও চলছে সমানতালে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো কর্মকর্তা একাধিক গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে তিনি গাড়িসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন। তারই সূত্র ধরে অনেক কর্মকর্তাকে গাড়ির জ্বালানি বাবদ নেওয়া বাড়তি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হচ্ছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের গাড়ি ঠিকমতো জমা দেওয়ার কথা আবারও সব মন্ত্রণালয়কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জানা যায়, ৬০ দিনের জায়গায় বছরের পর বছর কেটে গেলেও অনেক প্রকল্পের গাড়ি জমা হয় না। অনেক প্রকল্পের গাড়ির কোনো হদিসও পাওয়া যায় না। ২০১০ সালে চার দফা নোটিশ দেওয়ার পরও ২০টি মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীন বিভাগগুলো প্রকল্পের গাড়ির হিসাব দিতে পারেনি। তখন ৩০টি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবে দেখা গিয়েছিল, বিভিন্ন প্রকল্পের আট হাজার ৩৩০টি গাড়ি পরিবহন পুলে জমা হয়নি।

আমরা আশা করি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। এ পর্যন্ত কোন প্রকল্পে কতটি গাড়ি কেনা হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গাড়িগুলো কোথায় গেছে—সব খুঁজে বের করতে হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

মন্তব্য