kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

বাণিজ্যের কাছে জীবন মূল্যহীন

রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরাতে হবেf

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০১০ সালের ৩ জুন এই পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকায় রাসায়নিকের গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল ১২৪ জন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি সেদিন। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নেওয়ার ছিল। ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি এলাকায় রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা যে কত বিপজ্জনক, তা প্রমাণিত হয়েছিল ২০১০ সালের ৩ জুন সন্ধ্যায়। সেই দুর্ঘটনার পর তালিকা করে ৮০০ রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা পুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজটি করা সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে যেন ২০১০ সালের ৩ জুন রাজধানীর নিমতলীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল পুরান ঢাকার বনেদি এলাকা চকবাজারে। সেই রাতে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন পৃথকভাবে তদন্ত করে বিভিন্ন সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন দেয়। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই পুরান ঢাকায় আগুনের ঝুঁকি মোকাবেলায় রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু ঘটনার দুই বছরেও সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শেষ হয়নি; এমনকি পুরান ঢাকার দাহ্য রাসায়নিক ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন, নাকি কারখানা ও গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন সে ব্যাপারেও সঠিক কোনো তথ্য নেই সরকারি কোনো সংস্থার কাছে।

গত রবিবার পুরান ঢাকা কেমিক্যালমুক্ত করতে কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও দোকান অপসারণের সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংস্থা, বানিপা, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, সুবন্ধন সামাজিক সমাজকল্যাণ সংগঠন, ইসলামবাগ অনির্বাণ যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থা, দেবীবাস ঘাট সমাজকল্যাণ সংসদসহ সমমনা অন্যান্য সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে চুড়িহাট্টা চৌরাস্তায় এই মানববন্ধন হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, আর কবে সচেতন হব? আর কত প্রাণ গেলে আমাদের চৈতন্যোদয় ঘটবে? ২০১০ সালে নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির জন্য কেমিক্যালের গুদামগুলোকে দায়ী করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির সুপারিশে অনিরাপদ গুদামগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল; কিন্তু কিছুই হয় না। বাণিজ্যের কাছে জীবন মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

মন্তব্য