kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

করোনা টিকায় আগ্রহ বাড়ছে

সাধারণ মানুষের নিবন্ধন সহজ করুন

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে টিকা দিয়ে দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী শুরু হয় গণটিকাদান। শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও এখন মানুষের মধ্যে টিকা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ বেড়েছে। অধিকসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও টিকার বিষয়ে নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। অধিকসংখ্যক মানুষকে যাতে টিকার আওতায় আনা যায়, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, টিকাদানের ক্ষেত্রে বলতে গেলে নজরের বাইরে রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে বস্তিবাসী। তারা পিছিয়ে পড়েছে টিকার ভাগ পাওয়ার ক্ষেত্রে। সরকারের নির্ধারিত ৪০ বছরের বেশি বয়সের ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহারে অক্ষম নিম্ন আয়ের মানুষ টিকার বাইরে থাকছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অধিকসংখ্যক নিম্ন আয়ের মানুষকে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার জটিলতাই সাধারণ মানুষের টিকার আওতার বাইরে থাকার কারণ বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন। টিকার নিবন্ধন আরো সহজ করতে তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা অনেকের পক্ষেও নিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আবার নিবন্ধনের সময় নিজের সুবিধামতো বা পছন্দের কেন্দ্র পেতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সহজে নিবন্ধন করতে সরকারের হাতে আরো বেশ কিছু বিকল্প পথ থাকলেও তা কাজে লাগানো হচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেকে। টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের বয়স একই হওয়ায় কেন্দ্রে গিয়ে কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া এড়িয়ে সরকারের উদ্যোগেই গণনিবন্ধন করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ অবশ্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বুথ বসিয়ে বিনা মূল্যে নিবন্ধন করার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কারো কারো মতে, বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মীদেরও নিবন্ধনকাজে লাগানো যেতে পারে। আবার নির্ধারিত তারিখের বাইরে টিকা দেওয়ার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে নিবন্ধন করার পাঁচ-সাত দিন পরও যাঁরা তারিখ বা মেসেজ পাননি, তাঁদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সবার জন্য উন্মুক্ত নিবন্ধন বুথ খোলা দরকার। সাধারণ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা