kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

আবার সাইবার হামলার শঙ্কা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করুন

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম দেশকে তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়া। এরই মধ্যে দেশ এ খাতে যথেষ্ট এগিয়েও গেছে। শহরের সীমা ছাড়িয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তির মোবাইল, ইন্টারনেট গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির নানা সুফল ক্রমেই মানুষের জন্য সহজলভ্য হচ্ছে। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে চলেছে। নিরীহ মানুষের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবচেয়ে বড় ধরনের অপরাধের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অর্থ চুরিতে উত্তর কোরিয়ার একটি চক্র জড়িত ছিল বলে এরই মধ্যে এফবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে। এ ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য ছিল এটিই প্রথম। গত বছর আগস্টের শেষ দিকে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলা চালাতে পারে বলে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলে সতর্কতার অংশ হিসেবে তখন অনেক ব্যাংক অনলাইন ব্যাংকিংসেবা সীমিত করে। গত বছরের নভেম্বরেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে ফের সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে সরকার। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সাইবার হামলার প্রস্তুতির ঘটনা ধরা পড়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ পুরো খাতে নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিং লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি কিছু ব্যাংকের এটিএম সেবা রাতের বেলায় বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধ তদন্তে সরকারের বিশেষায়িত সংস্থা বাংলাদেশ কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের পর্যবেক্ষণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সাইবার হামলার প্রস্তুতির ঘটনা ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তিনটি ব্যাংক এবং একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও সার্ভার লক্ষ্য করে গত সপ্তাহে দফায় দফায় হামলার চেষ্টা চালায় হ্যাকাররা। তারা সফল হতে পারেনি।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা