kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

বরিশালে শিক্ষার্থীদের মারধর

জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন মঙ্গলবার। উত্ত্যক্তকরণের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল একজন বাস শ্রমিক। সরকারি দলের বরিশাল মহানগর নেতারা শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দেন, ওই বাস শ্রমিককে গ্রেপ্তার করার পরই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নেতারা ফিরে যান এবং ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা বাস শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও অবরোধ তুলে নেন। ঘটনা এ পর্যন্ত থেমে থাকলেই হতো; কিন্তু তা গড়িয়েছে অনেক দূর। এ ঘটনায় মধ্যরাতে থানায় মামলা করে শিক্ষার্থীরা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া মেসে ফেরার পথে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বাস শ্রমিকরা। এ সময় কিছু শ্রমিক মেসে ঘুমিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁদের মারধর করে। রাত সোয়া ১২টার দিকে ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় উপাচার্যের বাসায় ছুটে গিয়ে গাড়ির গ্যারেজে অবস্থান নেন। শ্রমিকরা সেখানেও লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির হয়। পরিস্থিতি সামলাতে উপাচার্যের গ্যারেজের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের অবরোধমুক্ত করে। মুক্ত হওয়ার পর পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা রূপাতলী থেকে তাঁদের অন্তত ১৪ জন সহপাঠীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। রাতেই তাঁদের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ খবর দ্রুত ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসগুলোর অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী রাত পৌনে ৩টার দিকে ক্যাম্পাসে জড়ো হন। রাতেই তাঁরা বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অংশ অবরোধ করেন। এ কারণে রাত থেকেই কুয়াকাটা ও ভোলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনার জেরে বুধবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার বিকেলে উপাচার্যের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের একজন সহপাঠীকে উত্ত্যক্ত করে একজন বাস শ্রমিক যে অন্যায় করেছে, তার প্রতিবাদ করে কোনো অন্যায় করেননি। তাঁরা আইন নিজের হাতেও তুলে নেননি। তাঁরা থানায় মামলা করেছেন। ন্যক্কারজনক ঘটনার আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন। এ জন্য গভীর রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নারকীয় হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা