kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করুন

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ ভোটগ্রহণ চলছে। নগরবাসী আজ নতুন নগরপিতা বেছে নেবেন। নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছে মহানগরের সর্বত্র। হয়েছে সংঘাত-সংঘর্ষ। নির্বাচনী প্রচারে এবার লাশ দেখেছে চট্টগ্রাম, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাভাবিকভাবেই আজকের দিনে চট্টগ্রাম মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবাই চিন্তিত। গত কয়েক দিন মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করার জন্য রীতিমতো নাওয়া-খাওয়া ভুলে ছোটাছুটি করছেন। প্রার্থীরা ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে কী কী করবেন, তার ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।

আমরা যতই ভোট উৎসব বলি না কেন, নির্বাচনে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। কাজেই উৎসবমুখর পরিবেশ সংঘাতে রূপ নিতেও সময় নেয় না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের পরদিন পর্যন্ত তারা টহলে থাকবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতি দুটি সাধারণ ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে বিজিবি মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রতি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে র‌্যাব মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করা হলেও নির্বাচন কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীর পাশাপাশি আরো পাঁচজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করছেন। সাধারণ ওয়ার্ডের ৪০টিতে ১৭৩ জন এবং সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নগরে এমন অনেক সমস্যা রয়েছে যেগুলোর সমাধান সরাসরি মেয়রের এখতিয়ারে নেই, কিন্তু তিনি উদ্যোগী হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই সেই সমাধান ত্বরান্বিত করা যায়। চট্টগ্রামবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তেমন মেয়রই প্রত্যাশা করছি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে এবার। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ছয়টি রাজনৈতিক দল এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ঘিরেই সব মহলে আলোচনা ছিল বেশি। জয়-পরাজয় ও ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে উভয় দলেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও শঙ্কা ছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বড় সমস্যা ছিল কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী। অন্যদিকে বিএনপি বরাবর ভোটের দিন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আজ চট্টগ্রাম মহানগরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা