kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

অরক্ষিত কারাগার

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্নত বিশ্বে কারাগার সংশোধনাগার হিসেবে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশের কারাগারগুলোর মান এখন পর্যন্ত সে পর্যায়ে উন্নীত হতে পারেনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে কারাগারগুলো অপরাধীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ আছে, বড় অপরাধীরা কারাগারে নিরাপদে বাস করে তাদের অপরাধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখে। আরো অভিযোগ আছে, কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাজকীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। কোনো কিছুরই অভাব থাকে না। এমনকি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপও ব্যবহার করতে পারে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের কারাগারব্যবস্থা দুর্নীতির কারণে অরক্ষিত হয়ে আছে। কারাগারের অনেক কর্মকর্তা ও রক্ষী মাদক কারবারেও জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্যান্টিনের খাবার ও দর্শনার্থী নিয়ে বাণিজ্য, বন্দিদের নির্যাতন করে অর্থ আদায়, বন্দিদের মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দেওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কারাগারগুলোকে অনিয়মের আখড়া বানিয়ে কারা কর্মকর্তারা গড়ছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে ধরাও পড়েছেন ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কারা কর্মকর্তা। তাঁদের বিচার চলছে। কিন্তু থেমে নেই টাকার বিনিময়ে অপরাধ করার সুযোগ দেওয়া। সর্বশেষ ‘হলমার্ক’ কেলেঙ্কারির কারাবন্দি তুষার আহমেদের কাশিমপুর-১ কারাগারে এক নারীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর ভয়াবহ অনিয়মের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। গত তিন বছরে শতাধিক কারা কর্মকর্তা ও রক্ষীকে অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরও উন্নতি নেই। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে শতাধিক কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পরও কমছে না অপরাধ। ২০১৮ সালের মে মাসে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় কর্মকর্তা ও কারারক্ষী মিলিয়ে অন্তত ৭০ জনের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনজনকে চাকরিচ্যুত এবং দুজনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মাদকের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বরিশাল কারাগারের চার রক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়। কাশিমপুর কারাগার থেকে জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন, বোমা মিজান ওরফে জিহাদুল ও রাকিব হাসানকে ময়মনসিংহ আদালতে নেওয়ার সময় ত্রিশালে সহযোগীরা প্রিজন ভ্যানে হামলা করে, পুলিশ হত্যা করে তাঁদের ছিনিয়ে নিয়েছিল।

মাত্র ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে দিনদুপুরে মই নিয়ে সীমানাপ্রাচীর পেরিয়ে বেরিয়ে যান এক কয়েদি। কাশিমপুর-১ কারাগারে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাইরের এক নারীর সঙ্গে এক বন্দির অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর সুযোগ হয়। এ ঘটনা দেশের কারাগার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। দেখিয়ে দিয়েছে কারাগারগুলো একেবারেই নিরাপদ নয়। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এখনো সময় আছে। কার্যকর ব্যবস্থা এখনই  নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা