kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

মুজিববর্ষের অনন্য উপহার

প্রায় ৯ লাখ গৃহহীন পাবে ঘর

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




মুজিববর্ষের অনন্য উপহার

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরে এসেও এ দেশে বহু মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়। এর চেয়ে দুঃখের, এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে! এর প্রধান কারণ দীর্ঘদিন স্বাধীন বাংলাদেশের কর্তৃত্ব করেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। তারা জনগণের ভাগ্য বদলের পরিবর্তে শুধু নিজেদের উদরপূর্তি করেছে। সেই দুঃখ আর লজ্জা ঘোচানোর দায়িত্ব নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঘোষণা করেছেন, মুজিববর্ষে এ দেশে কোনো ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবে না। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করে চলেছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মোট আট লাখ ৮২ হাজার গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে ঘর ও জমি দেওয়ার যে বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারই প্রথম পর্যায়ে আজ শনিবার ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই তাঁর সারা জীবনের লালিত স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন, যেখানে কেউ দরিদ্র, ভূমিহীন কিংবা গৃহহীন থাকবে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে অতি সীমিত সম্পদ নিয়ে তিনি সে কাজ শুরুও করেছিলেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি। ঘাতকরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে চেয়েছিল ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিতে; কিন্তু তা হয়নি। এ দেশের লাখো কোটি মানুষের মনে জীবিত থাকেন শেখ মুজিব। সেদিন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ২১ বছর পর শেখ হাসিনার হাত ধরে আবারও ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন। শুরু হয় স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনের পালা। কিন্তু ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর সাত বছর পর অনেক বেশি সক্ষমতা নিয়ে আবারও তিনি ক্ষমতায় আসেন। এবার তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ। তাঁর হাত ধরে দেশ আজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রায় শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের তুলনায় চার গুণ বেড়ে দুই হাজার ডলার অতিক্রম করেছে। দেশ নিজস্ব অর্থায়নে প্রমত্তা পদ্মার ওপর সেতু করছে। বিশাল সব মেগাপ্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে। বহু দিক থেকেই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কোনো মানুষকে গৃহহীন না রাখার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে যেমন এক ধাপ অগ্রগতি হবে, তেমনি ৩০ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। যেকোনো মূল্যে এই কর্মসূচিকে সফল করতেই হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা