kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

স্বাগত জো বাইডেন

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরো দৃঢ় হোক

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




স্বাগত জো বাইডেন

করোনাভাইরাস মহামারিকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জো বাইডেন। তাঁর সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন কমলা হ্যারিস। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্টই শুধু নন, একই সঙ্গে দেশটির প্রথম কালো এবং প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্টও তিনি। ট্রাম্প যুগের অবসানে বাইডেন যুগে প্রবেশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শপথ নেওয়ার পর অভিষেক ভাষণে ঝঞ্ঝামুখর সময় পেরিয়ে আশার বাণী শুনিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আজ আমেরিকার দিন, গণতন্ত্রের দিন, ইতিহাস গড়া আর প্রত্যাশার দিন, নবসূচনা আর ক্ষত নিরাময়ের দিন।’

আমেরিকার নতুন ইতিহাস রচনা করব। প্রতিশ্রুতি দিয়ে জো বাইডেন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসে এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে। মহামারির ধাক্কায় অর্থনীতি নাজুক। ভেঙে পড়েছে পররাষ্ট্রনীতিও। অনেক চ্যালেঞ্জ জো বাইডেনের সামনে। ট্রাম্প জামানায় গড়ে ওঠা বিভেদের প্রাচীর ভেঙে ঐক্যের ডাক দিয়ে অভিষেক বক্তৃতায় সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরো বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করে বিভাজনের রাজনীতি সরিয়ে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের জায়গায় যেতে চান তিনি। বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার নেতৃত্বের জায়গায় প্রতিষ্ঠা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে  শান্তি প্রতিষ্ঠায় মিত্রদের পাশে থাকার সদিচ্ছার কথাও বলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ১৫টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। আবহাওয়া পরিবর্তন ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। অভিবাসনের ক্ষেত্রে মেক্সিকো সীমান্ত বরাবর দেয়াল নির্মাণে তহবিল ছাড়ে সহায়তা করা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জরুরি ঘোষণা’ বাতিল করেছেন। এর পাশাপাশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছু দেশের ওপর আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সারা বিশ্ব থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ বাংলাদেশের আছে। প্রচলিত নীতি অনুসারে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গেও বাংলাদেশ জোরালো সম্পর্ক রাখবে। এখন অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও জো বাইডেনের সিদ্ধান্তগুলোর দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে; সক্রিয় থাকতে হবে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টায়। ঘটনাপ্রবাহের দিকে তীক্ষ দৃষ্টি রেখে বাংলাদেশকে খাপ খাওয়ানোই শুধু নয়, সম্ভাবনাগুলোকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। জো বাইডেনের যুগে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা