kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

প্রকল্পে ব্যবহৃত গাড়ি

খোঁজ পাওয়া যায় না কেন

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গতকাল কালের কণ্ঠে প্রথম পৃষ্ঠায় ‘প্রকল্পের ২৬২ গাড়ি গায়েব’ শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করার অনেক প্রমাণও আছে। প্রকল্পের বড় কর্তাদের জন্য বিলাসবহুল জিপ গাড়ি কেনার নজিরও আছে। এসব গাড়ির জ্বালানি হিসেবে গ্যাস, পেট্রল ও লুব্রিক্যান্ট কেনা বাবদ যে খরচ ধরা হয় তার পরমিণাও কম নয়। কিন্তু এবার প্রকল্পের গাড়িরই কোনো হদিস নেই। এর আগে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়িবিলাস নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু তাতে বিশেষ কোনো লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য কর্মকর্তাদের গাড়ির প্রয়োজন হতেই পারে। কিন্তু সেসব গাড়ি প্রকল্প শেষে সংশ্লিষ্ট জায়গায় ফেরত যেতে হবে। শেষ হয়ে যাওয়া প্রকল্পের গাড়ি সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে ফেরত না দেওয়ার অর্থ বিধি-বিধান ভঙ্গ করা। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। সেসব প্রকল্পে ব্যবহার করা ২৬২টি গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী এগুলো পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ায় হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয় অডিট আপত্তি দিয়েছে। এসংক্রান্ত অনিয়ম তদন্তে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবহন পুল ও অডিট অফিসের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তদন্ত কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গাড়িগুলোর প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জবাবে সিএজি কার্যালয়কে জানিয়েছে, প্রকল্পের সম্প্রসারণকাজে বিভিন্ন জেলায় গাড়িগুলো নিয়োজিত আছে। গাড়িগুলোকে পরিবহন পুলের তালিকাভুক্ত করতে মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই জবাব যথাযথ নয় বলে জানিয়েছে সিএজি কার্যালয়।

যেকোনো প্রকল্পেই গাড়ি প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু প্রকল্প শেষে গাড়িগুলো যথা জায়গায় ফেরত দিতে হবে। এমন হতে পারে যে প্রকল্প শেষ হলেও গাড়ি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রেও যথাযথ কর্তৃৎপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের গাড়িবিলাস বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থাও নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা