kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্ভারে ম্যালওয়্যার

সাইবার নিরাপত্তা আরো জোরদার করুন

১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্ভারে ম্যালওয়্যার

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। অনেক চেষ্টায় কিছু অর্থ উদ্ধার করা গেলেও বড় অংশই এখনো উদ্ধার করা যায়নি। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট-আরটিজিএস সিস্টেমে ম্যালওয়্যারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত হ্যাকাররা তথ্য চুরি করতে স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়্যার নামের বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার প্রগ্রাম ব্যবহার করে থাকে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভারে আবারও স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। এতে অনলাইনভিত্তিক অনেক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে।

প্রযুক্তির বহুবিধ সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সাইবার প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর থেকে দুনিয়াব্যাপী আর্থিক লেনদেনে রীতিমতো বিপ্লব সাধিত হয়েছে। দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অনায়াসে কেনাকাটা ও লেনদেন করা যাচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিং ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এত সুবিধার বিপরীতে বাড়ছে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ চুরি বা জালিয়াতির ঘটনাও। হ্যাকাররা নানা উপায়ে অন্যের কম্পিউটার থেকে গোপন তথ্য জেনে নিয়ে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ চুরি করে। তাদের তৈরি স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর অজান্তেই কম্পিউটারে ডাউনলোড ও ইনস্টল হয়ে যায় এবং হ্যাকারদের কাছে তথ্য পাচার করতে থাকে। এসব প্রতিরোধে অ্যান্টিভাইরাস ধরনের বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু সাবধানতাও অবলম্বন করতে হয়। ২০১৬ সালের এত বড় ঘটনার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভারের নিরাপত্তায় যে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কিংবা যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা হয়নি, বেশ কিছু স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি তার প্রমাণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় তাদের কাজের পরিধি অনেকটাই কমে গেছে। সুপারভিশন কার্যক্রমেও দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারছে না আবার বাইরের কারো প্রয়োজনে সাড়াও দিতে পারছে না। এমনটা ঘটাই স্বাভাবিক। তা-ও ভালো যে আরো বড় কোনো অঘটন ঘটেনি।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও সাইবার হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘বিগল বয়েজ’-এর ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। জানা গেছে, বিগল বয়েজ আগে যেসব ম্যালওয়্যার ব্যবহার করেছিল, সেগুলো আবারও শনাক্ত হয়েছে। আমরা চাই, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, দেশের সব ব্যাংকে সাইবার নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হোক। আর সে ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই। কাজেই তাদের এমন দুর্বলতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মন্তব্য