kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শিগগিরই আসছে করোনার টিকা

প্রয়োগের প্রস্তুতি আরো জোরদার করুন

১২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শিগগিরই আসছে করোনার টিকা

বিশ্বজুড়ে এখনো ভয়াবহরূপে বিরাজ করছে করোনা মহামারি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি টিকা বাজারে এসেছে। অনেক দেশেই টিকার প্রয়োগ চলছে। ভারতেও ১৬ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে মাঠপর্যায়ে টিকার প্রয়োগ। বাংলাদেশেও মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে টিকার জন্য। গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকার ৬০ লাখ ডোজের প্রথম চালান আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশে চলে আসবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে তা দু-এক দিন আগেও চলে আসতে পারে। এর মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ আসবে সরকারিভাবে এবং ১০ লাখ ডোজ আনা হবে দেশীয় কম্পানি বেক্সিমকোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারিভাবে বাজারজাত করার জন্য। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফাইজার, মডার্না, সিনোভ্যাক, স্পুিনক-ভিসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকা আমদানির চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও সায় রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই সেসব টিকাও চলে আসবে। আবার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও টিকা আনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

সব টিকাই হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হয়। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা (মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি) প্রয়োজন হয় ফাইজার ও মডার্নার টিকার ক্ষেত্রে। অন্যগুলো সাধারণ ফ্রিজিং টেম্পারেচারেই রাখা যায়। সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে সংরক্ষণ ও পরিবহনে যেন এই তাপমাত্রা সঠিকভাবে রক্ষা করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে টিকার গুণমান নষ্ট হয়ে যাবে। বেসরকারিভাবে টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত খুবই সময়োপযোগী হয়েছে। এখন লক্ষ রাখতে হবে এভাবে আনা টিকার দাম যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। যত দূর জানা যায়, অক্সফোর্ড, সিনোভ্যাক ও স্পুিনক-ভি টিকার দাম আমদানি খরচসহ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মতো হতে পারে। সবচেয়ে বেশি দাম পড়বে মডার্নার টিকার। মডার্নার এক ডোজ টিকার দাম পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকাও হতে পারে। সরকারের ঔষধ প্রশাসন সব দিক বিবেচনা করে টিকার দাম নির্ধারণ করে দেবে। তার পরও বিশেষ নজর রাখতে হবে, কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা না করে।

মাঠপর্যায়ে টিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি আরো এগিয়ে নিতে হবে। ২৫ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। অনেক বেশি প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও এখনো তারা এক কোটি মানুষকে টিকা দিতে পারেনি। এই গতিতে টিকা দেওয়া হলে সবাইকে টিকা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বছর লেগে যাবে। অথচ একবার টিকার মেয়াদ মাত্র ছয় মাস। মহামারি না কমলে তারপর যাঁরা টিকা নিয়েছেন তাঁদেরও আবার টিকা নিতে হবে। তাই টিকা সংগ্রহের পাশাপাশি টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আমাদের প্রস্তুতি আরো বাড়াতে হবে, যাতে ছয় মাসের মধ্যেই সম্ভাব্য সবার টিকাদান সম্পন্ন করা যায়।

 

মন্তব্য