kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দ্বাদশ বর্ষে কালের কণ্ঠ

পাঠকের আস্থায় অব্যাহত এগিয়ে চলা

১০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ’র জন্মদিন আজ। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল ১১টি বছর, দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ করল কালের কণ্ঠ। ‘আংশিক নয়, পুরো সত্য’ অঙ্গীকার নিয়ে ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল পথচলা। পাথেয় ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ। পাঠকের ভালোবাসায় সেই পথচলা আজও অব্যাহত আছে। এই সময়ে কালের কণ্ঠ মানুষের অকল্পনীয় ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে। ১১ বছর কালের কণ্ঠ সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরেছে। পাঠকের আস্থা আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করে সদর্পে এগিয়েছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে এবং একই ধারায় কালের কণ্ঠ এগিয়ে যাবে, এই আশা আমাদের।

কালের কণ্ঠ গণমানুষের কথা বলে, সমাজ ও দেশের সার্বিক কল্যাণের কথা ভাবে। সমাজ প্রগতির সংগ্রামেও কালের কণ্ঠ অগ্রগামী সৈনিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। বিগত সময়ে কালের কণ্ঠ সচেতনভাবেই অনেক সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে। মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধ তৎপরতার বিরুদ্ধে কালের কণ্ঠ সব সময় ছিল সোচ্চার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার ক্ষেত্রে কালের কণ্ঠ স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছে। কালের কণ্ঠ কোনো হুমকিতে মাথা নত করেনি; কোনো সমালোচনা গ্রাহ্য করেনি। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী কিংবা অনৈতিক কিছুকে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখার কাজটি সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে করে যাচ্ছে। ২০১১ সালে আমরা নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়েছিলাম। ২০১২ সালে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে শহীদ জননীদের, যাঁরা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে উৎসর্গ করেছিলেন তাঁদের সন্তানদের। সম্মাননা দেওয়া হয়েছে সেই বীর নারীদের, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নবম জন্মদিনে সম্মান জানানো হয় অসম সাহসী ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে, যাঁরা জীবন বাজি রেখেছিলেন যুদ্ধের ময়দানে। ২০১৯ সালে আমরা সম্মান জানিয়েছি সেই শিক্ষকদের, যাঁরা তাঁদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীবনের স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন। গত বছর নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২৫ জন গুণী মানুষকে সম্মাননা জানানো হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে সম্মাননা জানানো হয় দেশের সেই কৃতী সন্তানদের, যাঁরা ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন।

আমাদের এই একাদশ বর্ষপূর্তি সম্ভব হয়েছে পাঠকদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণে। পাঠকই আমাদের প্রথম বিবেচনা। গত এক বছরে করোনা মহামারির কারণে পত্রিকার কলেবর কিছুটা ছোট করতে হয়েছে। তার পরও পাঠকদের ভালোবাসা থেকে আমরা বঞ্চিত হইনি। আগামী দিনগুলোতেও পাঠকদের একই রকম ভালোবাসা ও সহযোগিতা পাব, সেই বিশ্বাস আমাদের আছে। আজ একাদশ বর্ষপূর্তি ও দ্বাদশ বর্ষে পা রাখার দিনে কালের কণ্ঠ’র অসংখ্য পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, বিপণনকর্মী—সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা বিশ্বাস করি, সবার মিলিত প্রয়াসেই কালের কণ্ঠ এগিয়ে যাবে। সবার ভালোবাসা, পরামর্শ ও সহযোগিতাই হোক আমাদের চলার পথের পাথেয়। সবাইকে অভিনন্দন।

মন্তব্য