kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

টিকার সর্বজনীন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করুন

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

কয়েক দিনের মধ্যেই উন্নত কয়েকটি দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ শুরু হবে। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই উন্নত প্রায় সব দেশেই টিকার ব্যাপক প্রয়োগ শুরু হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যেই উন্নত দেশগুলো তাদের পুরো জনসংখ্যাকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারবে। কিন্তু স্বল্পোন্নত, এমনকি উন্নয়নশীল অনেক দেশে ফেব্রুয়ারির আগে টিকা পৌঁছাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মনে করা হচ্ছে, এসব দেশের মোট জনসংখ্যাকে টিকার আওতায় আনতে কয়েক বছর লেগে যাবে। টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংগত কারণেই জাতিসংঘের ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানসম্পন্ন কভিড-১৯ টিকার সর্বজনীন ও ন্যায়সংগত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করার ওপরও জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মহামারি-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে শুক্রবার শুরু হওয়া দুই দিনের এই বিশেষ অধিবেশনে প্রাক-রেকর্ডকৃত এক ভাষণে এভাবেই তিনি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরেন।

প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, উচ্চ ও মধ্যম আয়ের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে ৬৮০ কোটি ডোজ টিকার ক্রয়াদেশ দিয়ে রেখেছে। আরো ২৮০ কোটি ডোজের ক্রয়াদেশ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। ধনী দেশগুলোর এভাবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টিকা কেনার কারণে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টিকা পেতে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। কারণ উৎপাদক কম্পানিগুলোর উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা আছে। তদুপরি চুক্তিবদ্ধ সরবরাহগুলোই তারা আগে পূরণ করবে। এতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টিকা পেতে ২০২৩ বা ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফলে দেশগুলোকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে। এই অসাম্য দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, ‘সর্বত্র নিয়ন্ত্রণে না আনলে কভিড-১৯-কে কখনোই কোনো একটি স্থানে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।’ এই অধিবেশন কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ, বৈশ্বিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্য ৩৪ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। এখন থেকেই জোর তৎপরতা না চালালে এই পরিমাণ টিকা পেতে বাংলাদেশেরও অনেক সময় লেগে যেতে পারে এবং সে জন্য অনেক বেশি মূল্য দিতে হতে পারে। পাশাপাশি আমরা আশাবাদী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে বিশ্বনেতারা যথাসময়ে বিশ্বের সব মানুষের টিকা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসবেন। বাংলাদেশসহ যেসব দেশের সক্ষমতা আছে, তাদের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দ্রুত পর্যাপ্ত টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করতেও তাঁরা সম্মিলিত উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা