kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ধুলায় ধূসর পরিবেশ

দূষণ এড়াতে ব্যবস্থা নিন

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ারভিজ্যুয়ালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী গত বছর ২৪ নভেম্বর সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইকিউএয়ারের গত বুধবার বিকেল ৩টার তথ্যানুযায়ী, বায়ুদূষণ নগরীর তালিকায় বিশ্বে ঢাকার অবস্থান ছিল অষ্টম, বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই ছিল ১৬৭। সাভারের দূষণের বায়ুমান সূচক ১৭৩, মানিকগঞ্জে ১৫৮, গাজীপুরের শ্রীপুরে ছিল ১৫৬। বাতাসে ভাসমান বস্তুকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম অর্থাৎ পিপিএম এককে। বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ যদি শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তাহলে ওই বাতাসকে বায়ুর মানের সূচকে ‘ভালো’ বলা যায়। এই মাত্রা ৫১-১০০ হলে বাতাসকে ‘মধ্যম’ মানের এবং ১০১-১৫০ হলে ‘বিপৎসীমায়’ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আর পিপিএম ১৫১-২০০ হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-৫০০ হলে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আইকিউএয়ার বলছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা চলতি সপ্তাহের পুরোটাই ছিল অস্বাস্থ্যকর।

কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের অধীনে স্বতন্ত্র লেন তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালিতে ওই এলাকার জনজীবন অতিষ্ঠ। উন্নয়নকাজের এলাকায় প্রয়োজনে দুবেলা পানি ছিটানোর কথা থাকলেও এলাকাবাসী কখনো পানি ছিটাতে দেখেনি।

বাতাসে থাকা নানা ক্ষতিকর উপাদান গলা ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বাতাসে থাকা কিছু ক্ষতিকর উপাদান। বায়ুদূষণে ঢাকা শহরে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শিশুদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটছে; পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বাতাসে ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা বেড়ে গেলে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট ও স্নায়ুজনিত সমস্যা, যেমন—বিষণ্নতা বেড়ে যায় এবং চিন্তনপ্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণকাজের সময় ধুলা আসবে, কিন্তু ধুলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিআরটি সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি উন্নয়ন প্রকল্প। বায়ুদূষণ রোধের জন্য প্রকল্পে ব্যয় ধরা আছে।

উন্নয়নের লক্ষ্য যদি হয় মানুষ, তাহলে পরিবেশদূষণ রোধে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ধুলা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা