kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩ বছর

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিন

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল তার ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময় পার্বত্য এলাকায় শান্তি যে একেবারে ফেরেনি সে কথা বলা যাবে না, তবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির ব্যাপারে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আপত্তি আছে। তাদের মতে, চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো পুরোপুরি মানা হয়নি। তবে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের সরকারের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে যে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু হয়েছিল, অসন্তোষের বিস্তার ঘটেছিল; চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তার অবসান হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ চুক্তির যে বড় একটি ভূমিকা আছে সে কথা স্বীকার করতেই হবে। স্বার্থান্বেষী মহলগুলোর অপতৎপরতা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে বিবদমান বেশ কিছু পাহাড়ি সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটে চলেছে। জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দল বা ‘আশ্রিত’ সংগঠনগুলোর কার্যকলাপে প্রাণ হারিয়েছে ৩৭৬ জন। তাদের মধ্যে ক্ষুদ্রজাতির ২৫৬ জন এবং বাঙালি পরিচয়ের ১২০ জন রয়েছে। অপহরণের শিকার হয়েছে ৫৩৮ জন। তাদের মধ্যে ক্ষুদ্রজাতির ৩৬৯ জন এবং বাঙালি ১৬৯ জন। চাঁদাবাজিও হয় ঢের, অঙ্কটাও বেশ বড়। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের কাছ থেকে এলএমজি, একে-৪৭, মর্টার, রকেট লাঞ্চারসহ অনেক যুদ্ধাস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এদের একটি অংশ শান্তিচুক্তির সরাসরি বিরোধিতা করছে। আবার এই চুক্তি যারা করেছিল তারাও এখন এই চুক্তি চায় কি না তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।

শান্তিচুক্তির বেশ কিছু ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পরও অনেকেই মনে করেন, ভূমি বিরোধই হচ্ছে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা। ভূমি কমিশন গঠন করা হলেও তা খুব একটা কাজ করতে পারছে না। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভূমি জরিপ জরুরি হলেও একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে আসছে। যদিও পাহাড়ি নেতারা এ জন্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবকেই বেশি দায়ী করছেন। মূলত সেটাই পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।

কথা হচ্ছে, চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের প্রধান ভূমিকা থাকলেও এর দায়িত্ব পুরোপুরি সরকারের একার নয়। চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য পক্ষেরও দায়িত্ব আছে। সবাই মিলে চুক্তিকে কার্যকর রাখতে হবে। আমরা আশা করি, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দ্রুত কেটে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা