kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মেডিক্যালে ভর্তি জালিয়াতি

প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেডিক্যালে ভর্তি জালিয়াতি

চিকিৎসাসেবাকে বলা হয় মহৎ পেশা। কারণ এই পেশায় আর্তমানবতার সেবা করা হয়। আর তাই পেশায় প্রবেশের আগে চিকিৎসকদের শপথও নিতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। চিকিৎসকদের নীতিনৈতিকতা, মান, আন্তরিকতা—সব কিছুই আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। প্রশ্ন উঠতে পারে, চিকিৎসা পেশার এমন অধোগতির কারণ কী? একটি কারণ হতে পারে ‘গোড়ায় গলদ’। অর্থাৎ যে শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক তৈরি হবেন, সেই শিক্ষায়ই গলদ থেকে যাওয়া। প্রশ্নপত্র ফাঁস এ দেশে প্রায় নিয়মিত বিষয় বা জাতীয় রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষাও এই রোগ থেকে মুক্ত নয়। কয়েক বছর ধরেই মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে গুরুত্বপূর্ণ সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁস। এক শ্রেণির অভিভাবক যেকোনো উপায়ে সন্তানদের মেডিক্যাল কলেজে পড়াতে চান। তাঁরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনে সন্তানদের হাতে তুলে দেন। সন্তানকে চিকিৎসক বানাতে তাঁরা আরো অনেক অবৈধ উপায় অবলম্বন করেন। এভাবে দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে মানহীন চিকিৎসকের সংখ্যা। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষ ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সম্প্রতি এই প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর অনেকের নামই সামনে চলে এসেছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রেসের মেশিনম্যান আব্দুস সালাম খানের সহায়তায় তাঁর খালাতো ভাই জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নু গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের হাত হয়ে পাঁচটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক, ১২ জন চিকিৎসক, কোচিং সেন্টারের মালিক, এনজিও কর্মকর্তা, আবাসন ব্যবসায়ী, ছাত্রনেতাসহ অন্তত ৫০ জন জড়িয়ে পড়েন চক্রে। তাঁদের মাধ্যমে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী ফাঁস করা প্রশ্ন পেয়ে মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন। আর বঞ্চিত হয়েছেন অনেক মেধাবী। প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়েছে, ২০০৬ সাল থেকেই মেডিক্যালে ভর্তির প্রশ্ন ছাপাখানা থেকে ফাঁস করে পাঁচটি কোচিং সেন্টারসহ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হয়। চক্রের হোতা জসিমের ডায়েরি, যোগাযোগ, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছে। প্রশ্ন ফাঁস কারবারে তাঁরা কোটিপতি। ব্যাংক হিসাব যাচাই করে ১১ জনের ৪৯ কোটি ছয় লাখ ৪৮ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন সিআইডির তদন্তকারীরা। মিলেছে জমি, ফ্ল্যাটসহ অঢেল সম্পদের হিসাবও।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আসামিরা জামিনে ছাড়া পেতে মরিয়া। আড়ালে চলে যাচ্ছেন জালিয়াতি করা নেপথ্যের কারিগররা। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা