kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সংশোধিত খসড়া ড্যাপ

আরো বাস্তবসম্মত করা প্রয়োজন

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




সংশোধিত খসড়া ড্যাপ

ঢাকা মহানগরীর একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। বিদ্যমান জনসংখ্যার অনুপাতে নেই রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, খেলার মাঠ, পার্ক কিংবা অন্যান্য সুবিধা। বর্ষায় একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত রাস্তার অভাবে যানজট লেগেই থাকে। তাই এখনো বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি হয়ে আছে আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা। পরিকল্পিত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালে এক হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ঢাকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়; কিন্তু ১৯৯৫ সালে তৈরি করা কাঠামোগত পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত গেজেট ব্যাপক অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠে। অনেকের ঘরবাড়ি, এমনকি কবরস্থানও হয়ে যায় কৃষিজমি কিংবা জলাভূমি। ফলে জোরালো প্রতিবাদ হতে থাকে। তাতে যুক্ত হন জনপ্রতিনিধিরাও। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে পাওয়া মতামত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অভিমত পর্যালোচনা করে ড্যাপ সংশোধনের নির্দেশ দেন। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে সাত মন্ত্রী ও আট সচিবকে নিয়ে রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর অনেক অসংগতি দূর করার সুপারিশ করে। এরপর খণ্ড খণ্ড আকারে গেজেট প্রকাশিত হয়। তারপর রাজউক ২০১৬-৩৫ মেয়াদের জন্য খসড়া রিভাইজড ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান প্রণয়ন করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংশোধিত খসড়া ড্যাপেও এমন অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

আশা করা হচ্ছে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশ হবে। তার আগেই রাজধানী শহরকে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এর পরও দ্রুত বাড়ছে মানুষ। ২০৪১ সাল নাগাদ এই সংখ্যা সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অপরিকল্পিত আবাসন নির্মাণ। একবার কোনো এলাকায় ব্যাপক আবাসন তৈরি হয়ে গেলে পরে সেখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঢাকার এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি তো নয়ই, ছোটখাটো অ্যাম্বুল্যান্স, এমনকি রিকশাও ঢুকতে পারে না। একটি আধুনিক শহরে যেখানে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জমি রাস্তার জন্য রাখতে হয়, সেখানে ঢাকায় আছে ৬ শতাংশের মতো। এখন বাড়িঘর ভেঙে রাস্তা তৈরি করা কি সম্ভব? তাই যত দ্রুত সম্ভব, পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা