kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিডকালে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরগুলো অন্তত বলে দিচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। একটি খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক হাজার ৮৬ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৭৭ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫০ জনকে। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে ২৯ জন। বাগেরহাটের মোল্লাহাট এবং ঢাকার সাভারে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলার চরফ্যাশনে এক গৃহবধূ ধর্ষণচেষ্টার মামলা করে আসামি ভাশুরের হত্যার হুমকিতে বাড়িছাড়া হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশালের উজিরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার সময় অভিযুক্ত মাহিন্দ্রাচালককে ধরে পিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুই মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত বুধবার রাতে ছিনতাইকারীর হাতে এক অটোরিকশাচালক খুন হয়েছেন। রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে এক যুবককে গত বুধবার রাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কে বাসিন্দারা। রংপুরে কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাই করার পর মাইক্রোবাসের চাপায় এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লার বরুড়ায় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর ডেমরায় একটি খালের মধ্যে ট্রলি ব্যাগ থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একই দিনে গণমাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত ঘটনা থেকে দেশের সচেতন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। অপরাধমূলক ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটল কেন? কেন খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না? সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস হওয়ার পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস অমানবিকতা? বিভিন্ন ঘটনায় মামলা হচ্ছে। বিচারও হচ্ছে। তবে এই বিচারে প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে না কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারণ বোধ হয় একটাই, একটি মামলা হওয়ার পর তা বিচারের জন্য বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচার দ্রুত হতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শাস্তিও দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, কর্তৃপক্ষ সব দিক বিবেচনায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক তৎপরতায় স্বস্তি ফিরুক জনজীবনে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা