kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় অ্যান্টিজেন টেস্ট

দ্রুত ব্যবস্থা নিন

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপ-আমেরিকার মতো বাংলাদেশেও এরই মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁঁদের মতে, এই সময়ে করোনা পরীক্ষা আরো বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। করোনার টিকা নিয়ে আশার কথা শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছে। কিন্তু করোনার টিকা কত দিনে বাজারে আসবে, তা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহজলভ্য হবে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। অবশ্য সরকার করোনার টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগের বিষয়ে এরই মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। টিকার ট্রায়ালের জন্যও প্রস্তুত বাংলাদেশ। যত দিন পর্যন্ত টিকা না আসছে, তত দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে করোনা পরীক্ষার জন্যও মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এত দিন পর্যন্ত আরটিপিসিআর টেস্টের ওপর নির্ভর করতে হতো। গত শনিবার কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে ম্যালেরিয়া-বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করা সম্ভব হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য আমাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে।

কভিড-১৯ রোগ নির্ণয়ের জন্য অ্যান্টিজেন টেস্ট নিশ্চিতভাবে পিসিআর টেস্টের বিকল্প না হলেও এই পদ্ধতিতে অল্প সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব। বিভিন্ন দেশ নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে অ্যান্টিজেন টেস্ট ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিজেন টেস্ট ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া অ্যান্টিজেন টেস্টে খরচও অনেক কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাস শরীরে থাকা মানেই শরীরে অ্যান্টিজেন থাকবে। ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেটাও শরীরে থাকে। রোগীর রক্ত পরীক্ষা করলে বোঝা যায় যে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি দুটিই আছে কি না। কারো মধ্যে ভাইরাসটি অবস্থান করলে অ্যান্টিজেন টেস্ট পজিটিভ আসবে। ব্যাপক হারে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত এবং করোনার সংক্রমণ রোধে অ্যান্টিজেন টেস্ট ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

যেহেতু দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে, তাই অ্যান্টিজেন টেস্ট অবিলম্বে শুরু করা দরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও জনসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি এই অতিমারি প্রতিরোধে আমাদের সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা