kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

কভিড প্রতিরোধে সরকার

প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিন

২০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিড প্রতিরোধে সরকার

বিশ্বমারি কভিড-১৯-এ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ যখন বিপর্যস্ত, তখন বাংলাদেশ এই সংকট মোকাবেলায় পারদর্শিতা দেখিয়েছে। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। আবার জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছে। জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সেই সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বগুণেই যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই নতুন করে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা। বাংলাদেশে সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সমুচিত সিদ্ধান্ত ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কভিড-১৯ বিশ্ব মহামারিকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে কভিড-১৯-এর প্রকোপ শীতকালে আবারও বেড়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবং শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের পয়েন্ট অব এন্ট্রিগুলোতে স্ক্রিনিং অব্যাহত রয়েছে। বিদেশফেরতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন কোটি ভ্যাকসিন আমদানির লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, করোনাকালে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কাছ থেকে জরুরি আপৎকালীন অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে তাঁর সরকার। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে আপৎকালীন সহায়তা হিসেবে দুই হাজার ৭২০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। কভিড প্রতিরোধের জন্য এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, করোনাভাইরাসের টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহের জন্য এডিবি আরো ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। করোনাকালীন কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্বব্যাংক ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১১০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা পাওয়া গেছে। জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের জন্য ১১৩ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচারে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

এখন জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। মাস্ক ব্যবহার করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা