kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

এ কেমন নির্মমতা

দ্রুত বিচার করতে হবে

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত শুক্রবার কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘এক পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর মাটিচাপা’ শীর্ষক খবরটি আমাদের নতুন করে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট তাতারকান্দা গ্রামে এক পরিবারের গৃহকর্তা, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বাড়ির পেছনে একটি গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়। পুলিশের হাতে আটক গৃহকর্তার ছোট ভাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ছোট ভাইয়ের বিরোধের জের ধরে ছোট ভাই স্ত্রী-পুত্রসহ তাঁর বড় ভাইকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। 

আমাদের সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি পারিবারিক অপরাধের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আমাদের সমাজজীবন থেকে সামাজিক বন্ধনগুলো ক্রমেই আলগা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে। ক্ষয়ে যাচ্ছে সব ধরনের মূল্যবোধও। এরই কুফল পড়তে শুরু করেছে সমাজের সর্বত্র। ফলে সামান্য কারণেই ঘটে যাচ্ছে খুনাখুনি। বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়া ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সঙ্গে নানা সামাজিক অপরাধও বিস্তৃত হচ্ছে। অথচ একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থা আমাদের সবারই কাম্য। সমাজের অপরাধপ্রবণতা যে ঘরে ঢুকে গেছে, তা-ও বলার অপেক্ষা রাখে না। সামাজিক এই অস্থিরতা ও পারিবারিক নৃশংসতা নিরসনে সমন্বিত অনেক উদ্যোগ প্রয়োজন। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই মূলত এ রকম নানা ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা বাড়ছে।

দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছি। কিন্তু সত্যিকারের মানবিক সমাজ যদি গঠন করা সম্ভব না হয়, তাহলে এই উন্নয়নের সুফল কি মানুষ ভোগ করতে পারবে? পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে প্রমাণিত হয়, এক অসহিষ্ণু সময় পার করছি আমরা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই; কিন্তু সমাজ থেকে এই বর্বরতা দূর করার উপায় কী? বিষয়টি নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে। প্রয়োজনে এই নৃশংসতার বিচারে আইনের কোনো পরিবর্তন আনা যায় কি না সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। আইনি প্রচেষ্টার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবিক, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য