kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিত্যপণ্যের বাজার ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। চাল, আলু, পেঁয়াজসহ অনেক নিত্যপণের দামই নাগালের বাইরে। এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি বলেছে, দাম সাধারণের আয়ত্তের মধ্যে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমে পেঁয়াজ, তারপর আলুর দাম নিয়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এভাবে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কাছে কি আগে থেকে জরিপকৃত কোনো তথ্য থাকে না? এ তথ্য থাকলে তো আগে থেকেই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের কাছে একটা মাস্টারপ্ল্যান থাকতে হবে। হঠাৎ করে কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে তা সাধারণ মানুষের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি করে। এ রকম হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্যদের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন কম। আলু নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। সদস্যরা বলেন, সাধারণ মানুষ এ ব্যাখ্যা মানতে চাইবে কেন? তারা শুনবে না। তারা দেখবে বাজারের অবস্থা। বাজারের অবস্থা একদম ভালো নয়। অতঃপর মন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে, নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর জন্য দুই বছর সময় লাগবে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রতিক্রিয়া জনমতেরই প্রতিফলন। বাজার ঠিক রাখার জন্য দরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়। আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। সেই প্ল্যান অনুযায়ী উৎপাদন বাড়াতে কী করণীয়, কোন পণ্য কত পরিমাণে আমদানি করতে হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের বাজারে নানা রকম সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা সুযোগ পেলেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও কখনো চিনির দাম, কখনো আদা-রসুনের দাম, কখনো চাল-ডাল-ছোলা-তেলের দাম বেড়ে যায়। এ জন্য বাজারে হস্তক্ষেপ বাড়াতে হবে। টিসিবি খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিলেও তা এতটাই সামান্য যে এটি বাজারে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। টিসিবির এমন উদ্যোগ আরো ব্যাপক করতে হবে। সিন্ডিকেটকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বাড়াতে হবে। আমরা চাই, বাজার স্থিতিশীল থাকুক এবং বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে না পড়ুক।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা