kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

কয়েন নিয়ে বিপাকে

স্পষ্ট নির্দেশনা জরুরি

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের জাঙ্গালিয়া গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম খবিরকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সচিত্র খবরটি অনেকেরই নজরে এসেছিল। ছয় মণ কয়েন নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সামান্য সবজি বিক্রি করে সংসার চলে তাঁর। অনেকে ধাতব মুদ্রা দিয়ে সবজি কিনেছেন তাঁর কাছ থেকে। কিন্তু খবির সেই ধাতব মুদ্রা কোথাও চালাতে পারেননি। কেউই তাঁর কাছ থেকে এই মুদ্রা নিতে চায় না। অথচ প্রচলিত এই কয়েন বিনিময় হিসেবে বাতিল ঘোষিত হয়নি। গণমাধ্যমে খবিরের খবরটি প্রকাশের পর একটা ব্যবস্থা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে তাঁর একটি হিসাব খোলা হয়েছে। তিনি প্রতিদিন এখানে এক হাজার টাকা মূল্যমানের কয়েন জমা দেবেন।

মাগুরার খাইরুল ইসলাম খবিরের একটা ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু সারা দেশেই তো এমন আরো অনেকে আছেন, যাঁরা বিপাকে পড়েছেন কয়েন নিয়ে। কারণ আইন অনুযায়ী বিনিময়ের সময় কাগজি নোটের পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত সব মূল্যমানের কয়েন নিতে বাধ্য হলেও বাস্তবে লেনদেনের সময় কয়েন নিতে সবাই অনীহা দেখায়। আবার ব্যাংকগুলোও কয়েন নিতে চায় না। বাস্তবে কয়েন না নেওয়ার কোনো কারণ না থাকলেও ভল্টে কয়েনের স্তূপ জমে আছে, এমন অজুহাতে ব্যাংকগুলোও কয়েন নিতে অস্বীকার করে, এমন অভিযোগও আছে। যেকোনো মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা বা নোট না নেওয়ার সুযোগ কোনো ব্যাংকের নেই। জনসাধারণও এ ধরনের মুদ্রা নিতে বাধ্য। তার পরও এ ধরনের মুদ্রা নিতে সাধারণ মানুষের অনীহার কারণ বোধ হয় একটাই, আর তা হচ্ছে ব্যাংকগুলোর অনীহা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েন নিয়ে ব্যাংকে বদলাতে গেলে অনেক ব্যাংকই তা বদলে দেয় না বা দিতে চায় না। ফলে মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকার কয়েন অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এ ধরনের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে ১, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সার কয়েন এখন আর দেখা যায় না। ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন এখনো লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে সব ধরনের কয়েন গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয় বা বিনিময় করে সে ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা