kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান

তার আগে রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নিন

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মিয়ানমার আলোচনার নামে শুধুই সময়ক্ষেপণ করছে। দিন-তারিখ ঠিক হওয়ার পরও কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি। কবে পাঠানো যাবে, তা-ও নিশ্চিত নয়। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার প্রকৃতপক্ষে কিছুই করছে না। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মিয়ানমারকে কার্যকর চাপ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, প্রকারান্তরে তারা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশেই রেখে দিতে চাইছে। এ অবস্থায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘আশ্রিত রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব তাদের উৎস দেশ মিয়ানমারে ফিরতে হবে। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষা প্রশ্নে বাংলাদেশ যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কিছু কাজ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গা শিবিরে বেড়া দেওয়া হচ্ছে। ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে বলেও জোর দিয়ে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে সহযোগিতার তহবিল গঠন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৬ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে রেহাই পেতে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এবং মূলত কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। এর ফলে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনজীবনে নেমে এসেছে এক দুর্বিষহ অবস্থা। কঠিন প্রহরা সত্ত্বেও তাদের ক্যাম্পে রাখা যাচ্ছে না। দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। রোহিঙ্গারা মাদক, অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের নিজেদের মধ্যেও হানাহানি, খুনাখুনির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনই হচ্ছে একমাত্র সমাধান। সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং নানা উপায়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তার আগে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে রেখে অন্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করছে কোনো কোনো শক্তি, যা হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

বাংলাদেশ সরকারকে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। জানা যায়, সম্মেলনে প্রায় ৬০ কোটি ডলার সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি, প্রত্যাবাসন ও তাদের ওপর নিপীড়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার মিলেছে। আমরা মনে করি, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে হবে। তার আগে তাদের ভাসানচরসহ অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা