kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

আন্দোলন শেষ কথা নয়

আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আন্দোলন শেষ কথা নয়

গত কয়েক বছরে কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেগুলো শুধু দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে তা নয়, বিশ্বজুড়েই আলোচিত হয়েছে। শুরুতেই আলোচনা করা যেতে পারে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের বিষয়টি। ২০০৩ সাল থেকে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন হচ্ছে। ২০১৮ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় দুটি বাসের চাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নির্মমভাবে নিহত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া চালনায় মৃত্যু ঘটানো চালকের সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে ৯ দফা দাবিও তুলে ধরে। ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন’ পাস হয়। এখনো হয়নি নতুন আইনের বিধিমালা। ফলে আইনের প্রয়োগ নেই। আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপদ দিবস। কিন্তু সড়কপথে মানুষের যাত্রা কি নিরাপদ হয়েছে?

২০১৫ সালে সরকার টিউশন ফির ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে মূসক বা ভ্যাট নির্ধারণ করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘নো ভ্যাট’ আন্দোলন শুরু করেন। রাজধানীতে জনজীবন স্থবির করে দেওয়া ওই আন্দোলনের মুখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে সরকার। শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা। বাস্তবে কি তা সম্ভব হয়েছে? ভ্যাট নেওয়া বন্ধ হলেও বিভিন্ন ফির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সাম্প্রতিক সময়ে পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধভাবে দেশে ধর্ষণের বিস্তার ঘটলে দেশজুড়ে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয় গত ১৩ অক্টোবর। এর পরও ধর্ষণের ঘটনা থামেনি। গত সোমবার টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কলেজছাত্রী। বরিশালের আগৈলঝাড়া, পাবনার ভাঙ্গুড়া, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায়ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনের কঠোর প্রয়োগ একান্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন সংশোধন বা তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থায় আন্দোলন স্তিমিত হচ্ছে। তবে পূর্বাপর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এসব আন্দোলন কার্যত সফলতা পাচ্ছে না। সরকারের শুভ উদ্যোগও ভালো ফল বয়ে আনতে পারছে না। তাঁদের মতে, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে অবস্থা বদলাতে। সরকারের নির্দেশনা কার্যকরে বিভাগীয় কঠোর নজরদারিও প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইন সংশোধন করে তখনই লাভ হবে, যখন ওই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই উদাহরণ সৃষ্টি হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হতে না পারলে আইন করে কোনো লাভ নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা