kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনার দ্বিতীয় আঘাত

শিল্প-কারখানা রক্ষায় পরিকল্পনা নিন

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার দ্বিতীয় আঘাত

করোনা মহামারির আতঙ্কজনিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বিশ্ব। প্রথম দফা সংক্রমণের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অনেক দেশে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। অনেক দেশই আবার সীমিত পরিসরে লকডাউন শুরু করেছে। দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে বাংলাদেশেও। দেশে প্রথম দফা সংক্রমণ শুরু হয়েছিল মার্চ মাসে। লকডাউন ও সাধারণ ছুটির কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল জনজীবন। বন্ধ রাখতে হয়েছিল শিল্প-কারখানা। আমদানি-রপ্তানিও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কাঁচামালের সংকটেও শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জুন থেকে ঝুঁকি নিয়েই কলকারখানা চালু করা হয়। অনেক শিল্পই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ শুরু হলে অনেক শিল্পের পক্ষে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ কিভাবে মোকাবেলা করা হবে, কিভাবে শিল্প-কারখানা রক্ষা করা হবে—আগেভাগেই সেসব কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আশা করা যায়, প্রথম দফা সংক্রমণের মতোই বাংলাদেশ দ্বিতীয় দফা সংক্রমণও সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।

প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থা দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে এবং তা মোকাবেলায় কী করা উচিত, তা নিয়ে কাজ করছে অর্থ বিভাগ। এরই মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় চলতি অর্থবছর ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের বড় একটি অংশ (৮-৯ হাজার কোটি টাকা) চলে যাবে ভ্যাকসিন কেনা বাবদ। বাকি টাকা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় খরচ করা হতে পারে। এই টাকা ছাড়াও অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে রয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ‘অন্যান্য খাত’ নামে আরো এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা আছে। প্রথম ঢেউয়ে দেওয়া প্রণোদনার ঋণ এখনো শতভাগ বিতরণ করা হয়নি। তার পরও দ্বিতীয় ঢেউয়ে সরকার নতুন করে কোনো প্রণোদনা ঘোষণা করলে এই খাতগুলোর অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। প্রথম দফায় যেসব সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তা দূর করতে হবে। মহামারি যদি মারাত্মক আকার ধারণ করে, তাহলে শুধু ঋণভিত্তিক প্রণোদনা দিলে হবে না, প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তাও দিতে হবে। কাঁচামাল সংকটে যেন শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে জন্য কাঁচামালের মজুদ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ তীব্র হলে অনেক ক্রেতা দেশই আমদানি বন্ধ করে দিতে পারে।

আমরা আশাবাদী, প্রথম দফা সংক্রমণের চেয়েও সফলভাবে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ মোকাবেলায় সক্ষম হবে। এ জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। আমরা চাই, নীতিনির্ধারকরা সেভাবেই করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে যাবেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা