kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর

কক্সবাজার রক্ষা করা জরুরি

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। এদের প্রায় সবাই কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলটি আজ রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘিঞ্জি পরিবেশের আশ্রয়শিবিরগুলো হয়ে উঠেছে নানা ধরনের অপরাধের আখড়া। গুম, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ—কোনো কিছুই বাদ নেই। বিশেষ করে রাতের বেলা ক্যাম্পগুলো চলে যায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দখলে। স্বামী-স্বজনদের সামনেই তুলে নেওয়া হয় নারীদের। এ পর্যন্ত কয়েক শ ব্যক্তি গুম-অপহরণের শিকার হয়েছেন। এদের হাতে স্থানীয়রাও হত্যা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গেও এরা যুক্ত। এরা এসব অপকর্মে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের। তাই তারা চায় না কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাক কিংবা ভাসানচরে স্থানান্তরিত হোক।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কক্সবাজারের তুলনায় তা অনেক উন্নত ও নিরাপদ। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্ট্যান্ডার্ড মেনে ৩.৯ বর্গমিটার জায়গা রেখে সেখানে ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে। ১২০টি ক্লাস্টারে থাকা ঘরগুলো এতটাই পাকাপোক্ত যে ২৬০ কিলোমিটার গতির ঝড়েও ঘরের কোনো ক্ষতি হবে না। তার পরও এসব ক্লাস্টারের সঙ্গে রয়েছে চারতলা একটি দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র। রয়েছে ভূগর্ভস্থ পানি, পুকুর, হ্রদ ও খালের ব্যবস্থা। প্রতি ১১ জনে একটি টয়লেট ও ২০ জনে একটি বাথরুমসহ রয়েছে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। আছে ডিজেল জেনারেটর ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা। রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, ক্লিনিক, থানা, সুপারশপ, অফিস ও শেল্টার হাউস। পাশাপাশি আছে জীবিকা নির্বাহের নানা সুবিধা। স্বাভাবিক যাতায়াতের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথের স্টপেজ করারও কাজ চলছে। তার পরও বাঁশ-ত্রিপলে তৈরি ঘিঞ্জি আশ্রয় ছেড়ে রোহিঙ্গারা কেন সেখানে যেতে চাচ্ছে না? কারণ সন্ত্রাসীরা তাদের যেতে দিচ্ছে না। পাশাপাশি কিছু এনজিও তাদের কোথাও না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। কক্সবাজারের বিলাসী জীবন ছেড়ে ভাসানচরে গিয়ে কাজ করতে এনজিওকর্মীরা আগ্রহী নয়। অথচ প্রায় তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে এই আবাসন উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতেই হবে। পাশাপাশি রক্ষা করতে হবে কোণঠাসা হয়ে পড়া কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসীদেরও। তাই ভাসানচরে লাখখানেক রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে অনুরূপভাবে এখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা