kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশের বড় অর্জন

ক্ষুধা সূচকে আরো উন্নতি করতে হবে

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের বড় অর্জন

খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি—নেতিবাচক খবরের যেন শেষ নেই। এসব দেখতে দেখতে যখন দম আটকে আসছিল, তখনই সামান্য নির্মল বাতাসের মতো একটি সুসংবাদ এলো। আর সেই সুসংবাদটি হলো বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ১৩ ধাপ এগিয়েছে। ১০৭টি দেশকে নিয়ে তৈরি করা এই সূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৭৫তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ৮৮তম। এই সূচকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান হয়েছে ৯৪তম এবং পাকিস্তানের ৮৮তম। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা (৬৪তম) এবং নেপাল (৭৩তম)। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে আমরা অবশ্যই আনন্দিত, যদিও আমাদের আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট গত শুক্রবার বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক-২০২০ প্রকাশ করেছে। শুধু সূচকের অবস্থানেই নয়, যে চারটি মাপকাঠিতে বিচার করে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) তৈরি করা হয়, তার সব কটিতেই গতবারের তুলনায় এগিয়েছে বাংলাদেশ। এই চারটি মাপকাঠি হচ্ছে—অপুষ্টির হার, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশুর হার, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার। সারা দুনিয়ায় যখন উন্নয়নের গতি মন্থর হয়েছে, তখনো বাংলাদেশের এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে। শূন্য থেকে শুরু হওয়া এই স্কোর পরিস্থিতি যত খারাপ হবে ততই বাড়বে। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫.৮। এবার স্কোর কমে হয়েছে ২০.৪। এটি অনেক বড় অর্জন হলেও এখানেই থামা যাবে না। ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ এখনো অপুষ্টির শিকার, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯.৮ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম, ২৮ শতাংশ শিশুর উচ্চতা বয়সের অনুপাতে কম এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার ৩ শতাংশ। এসব ক্ষেত্রে আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, তাঁর সরকার খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। কাজেই এ দেশে আর কেউ কোনো দিন না খেয়ে থাকবে না।

বাংলাদেশের এই অর্জন অবশ্যই স্বাধীনতার ফসল। তদানীন্তন পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের শানশওকতের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের কোনো তুলনাই হতো না। সব দিক থেকেই আমরা পিছিয়ে ছিলাম। তদুপরি একাত্তর সালে এই দেশটিকে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল পাকিস্তানি শাসকরা। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের এই এগিয়ে চলা এক তুলনাহীন সাফল্যের কথাই বলে। শুধু বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকেই নয়, আরো অনেক ক্ষেত্রেই আজ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বিশ্বেই বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় গিয়ে দাঁড়াবে।

 

মন্তব্য