kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ড

রায় দ্রুত কার্যকর হোক

১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০’ অধ্যাদেশ আকারে জারি করেন। সংশোধিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০’ জারির পর গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলে প্রথম দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আট বছর আগে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দণ্ড পাওয়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করে মনে হতে পারে, ধর্ষণকারীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সমাজ যেন ক্রমেই বর্বরতার চরমে চলে যাচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদও হয়েছে দেশে। এরই মধ্যে আবারও ঘটেছে এমন মর্মান্তিক ঘটনা। ময়মনসিংহের ভালুকা ও কুমিল্লায় দুই শিশু এবং বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কলেজছাত্রী ও যশোরের ঝিকরগাছায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চার জেলায় চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে চারটি মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে দুজন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এসব ঘটনার পর প্রশ্ন জাগতে পারে, আমাদের সমাজের পরিচয় কি পাল্টে যাচ্ছে? পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সহনশীল সমাজে যে বন্ধন ছিল, তা ঢিলে হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন নৈতিকতাও কি নির্বাসিতপ্রায়? মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। আমাদের সামাজিক অবক্ষয় তো আর এক দিনে ঘটেনি। দিনে দিনে মূল্যবোধ ক্ষয়ে গেছে।

এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সে কাজটি হয়নি। এ অবস্থায় নারী নির্যাতন-ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সামাজিক অনুশাসন ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তেমনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠারও কোনো বিকল্প নেই। সব ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। টাঙ্গাইলের আদালত যে মামলার রায় দিয়েছেন, তাকে আমরা অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু বিবেচনার বিষয় হচ্ছে, মামলাটি হয়েছিল ২০১২ সালে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডিত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। অর্থাত্ বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতেই তিন বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর রায় হতে সময় লেগেছে পাঁচ বছর। দ্রুত বিচার আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনে কেন বিচার সম্পন্ন করা যায় না? কেন এত বছর লেগে যায়? এসব বিষয় ভেবে দেখার সময় এসেছে। আমরা আশা করব, এই মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা