kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন

১৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাকালে নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ভোগাচ্ছে ভোক্তাদের। সংসারের ব্যয় কমিয়েও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশের বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। বাজার দ্রুত স্বাভাবিক করতে এরপর পেঁয়াজ আমদানির ওপর নির্ধারিত ৫ শতাংশ শুল্কের পুরোটাই প্রত্যাহার করে নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে গত এক মাসে ৬০০ ব্যবসায়ী প্রায় সাত লাখ টনের অনুমতিপত্র নিয়েছেন। বাস্তবে পেঁয়াজ এসেছে ছয় হাজার টন! এটি অনুমতিপত্র নেওয়া পেঁয়াজের ০.৯ শতাংশ। ওদিকে ডিমের দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। চাল ও ডালের দামও বেড়েছে। সর্বশেষ বেড়েছে আলুর দাম। কয়েক দিন ধরে বাজারে কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য সবজির দামও। এতে দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বাজার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, আলুর দামে অস্থিরতা ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয় ৩০ টাকা কেজি। পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা ও হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও পণ্যটির দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না কোথাও। দর নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবু সুফল মিলছে না। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে গত মৌসুমে এক কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। বার্ষিক চাহিদা ৭৭ লাখ টন।

সরকারের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে বাজারের ওপর। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে মানুষের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ বাজারে স্বস্তি পেতে চায়। কিন্তু এখন বাজার মানুষের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এমনিতেই করোনাকালে মানুষের আয় কমেছে। অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। ধারণা করা যেতে পারে, অদৃশ্য বাজার সিন্ডিকেট নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।

সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা