kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসুন

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান হারে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ বেশি করে গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, ডুবে যাচ্ছে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও উপকূলীয় অঞ্চল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা দুটিই বাড়ছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বন্যা, ভূমিধসে সম্পদ ও প্রাণহানি। অন্যদিকে বাড়ছে খরা ও মরুকরণ প্রক্রিয়া। বাড়ছে তাপমাত্রা। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ হেক্টর বনভূমি। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য, যা প্রকারান্তরে মানবজাতিকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে জাতিসংঘের বায়োডাইভার্সিটি সামিটে প্রদত্ত ভিডিও বক্তৃতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা না পেলে মানবজাতি ক্রমেই বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে। তাই পৃথিবী ও মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় চারটি পদক্ষেপ নিতে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

ইকো সিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি প্রাণী প্রজাতির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে এবং তারা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ মানুষের অপরিণামদর্শী কাজকর্মের জন্য প্রতিনিয়ত জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড এবং লন্ডন জুওলজিক্যাল সোসাইটির তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭০ থেকে ২০১৬ সালে এসে বিশ্বে বন্য প্রাণীর সংখ্যা কমেছে ৬৮ শতাংশ। তাই পৃথিবী ও পৃথিবীর মানুষকে বাঁচাতে চার দফা পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেগুলো হলো: ১. যেকোনো বিনিয়োগের সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেটা ভবিষ্যতের জন্য কতটা টেকসই হবে। ২. জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণার মাধ্যমে বৃহত্তর জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং আইন ও নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। ৩. জেনেটিক গবেষণার তথ্য এবং এসংক্রান্ত প্রথাগত জ্ঞান থেকে প্রাপ্ত সুফল যাতে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীরা পান, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। ৪. প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে আমরা বিলুপ্ত হয়ে যাব, না টিকে থাকব। সুতরাং আমাদের অবশ্যই সেসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে। এ সময় তিনি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মৌলিক নীতি হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের শুরুতেই বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধ্যাদেশ কার্যকর করেছিলেন। যে কয়টি দেশ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি বাস্তবায়নের জন্য আইন কার্যকর করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০১৭ সালেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

মানবজাতির অস্তিত্বের স্বার্থে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি রোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যে চারটি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশ্বনেতাদের আন্তরিকতার অভাব হবে না।

মন্তব্য