kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জেসিসির ভার্চুয়াল বৈঠক

গতিশীল হোক দুই দেশের সম্পর্ক

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেসিসির ভার্চুয়াল বৈঠক

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ পরামর্শক কমিশন, জেসিসির ভার্চুয়াল বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠক ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বৈঠকে ভারতের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন, ট্রায়াল এবং তা চূড়ান্ত হওয়ার পর উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের সহযোগিতার অপেক্ষায় আছে। এসব উদ্যোগে বাংলাদেশকে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতে তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর পরপরই বাংলাদেশে তা শুরু করার বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবটি বাংলাদেশ নীতিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, অভিন্ন নদীর পানির সমস্যা সমাধান এবং সীমান্তে নিহতের সংখ্যা শূন্যে কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারত সম্মত হয়েছে। অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের সমাধান ছাড়াও তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। উভয় পক্ষই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বাসস্থানে দ্রুত নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেছে। ভারত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে।

জেসিসি বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের বিষয়েও কথা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ভারত একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। বৈঠকে ভারতের ঋণের অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকির জন্য বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ভারতীয় হাইকমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী বছর মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি যৌথভাবে উদযাপনে বেশ কিছু অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচিত হয়েছে বহুল আলোচিত পেঁয়াজ প্রসঙ্গও। আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

শান্তি ও উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই। তিন দিকে সীমান্ত থাকা ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রধান প্রতিবেশী; তাই তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরো বেশি জরুরি। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের রয়েছে অসামান্য অবদান। স্বাধীনতা-উত্তর যুগেও বন্ধুত্বের সম্পর্কটি জোরদার হয়েছে। অভিন্ন ঐতিহ্যের অধিকারী দুটি দেশের মানুষ হিসেবে আমরা চাই, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশ দুটির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকুক। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা সব ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হোক। সেই লক্ষ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করার ক্ষেত্রে উভয় দেশকেই সমানভাবে আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে।


 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা