kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সৌদিপ্রবাসীদের বিক্ষোভ

সংকট কাটাতে ব্যবস্থা নিন

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌদিপ্রবাসীদের বিক্ষোভ

টোকেন ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট এবং করোনাকালে স্বয়ংক্রিয় ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির দাবিতে গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানী ঢাকার রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী কর্মীরা। এই কর্মীদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ আজ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা বিমান টিকিট রিকনফার্ম করার জন্য টোকেনই পাননি তাঁরা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত এজেন্সির মাধ্যমে ২৪ দিন ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও কর্মীদের অভিযোগ, এজেন্সিগুলোর কাছে গেলে তারা বলছে, এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনো তারা পায়নি। ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে করোনা মহামারির কারণে আটকে পড়া সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ফ্লাইটসংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে দাম্মাম রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। সৌদি আরবে যাত্রী বহনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনস এরই মধ্যে অনুমতি পেয়েছে। এর আগে করোনা পরিস্থিতির জন্য দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়া নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ইকামা কিংবা ভিসা, বাংলাদেশের নাগরিকদের যার যেটা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী মেয়াদ তিন মাসের জন্য বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের কর্মীদের ইকামার মেয়াদ চলতি আরবি সফর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে এবং প্রয়োজনে আরো বাড়ানো হবে বলে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনার কারণে বাংলাদেশে ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা মহামারিতে বিদেশে কর্মসংস্থানে ধস নামায় বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান খাত প্রবাসী আয় বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। গত সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভাকে যে তথ্য দিয়েছে, তাতে বলা হচ্ছে, চলতি বছর বিদেশে সাড়ে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য থাকলেও কভিড-১৯ মহামারির কারণে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মাত্র এক লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম। নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে সৌদিপ্রবাসী কর্মীদের ফিরে যাওয়া নিয়ে সংকট।

দেশের মানবসম্পদের জন্য নতুন বাজার খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন নতুন বাজারের সন্ধানের পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদার পরিবর্তন ও দক্ষতার বিষয়ে নজর দিতে হবে। অদক্ষ, আধাদক্ষ কর্মীর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তির বাজার খুঁজে বের করতে পারলে রেমিট্যান্স বাড়বে। গতি পাবে অর্থনীতির চাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা