kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাহবুবে আলমের মৃত্যু

বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




মাহবুবে আলমের মৃত্যু

চলে গেলেন দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণমুক্ত হলেও সুস্থ হয়ে আর ফিরতে পারলেন না তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা ১১ বছর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় যে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর শোকবার্তায় বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় বলেছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন এবং সব সময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার বসেনি সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগ।

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থেকে রাষ্ট্রপক্ষে তথা সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলার বিচারকাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা মামলাও পরিচালনা করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাড়ির মামলা, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা এবং তাঁর জামিন আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল মুখ্য। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শুরু হলে মাহবুবে আলম প্রথম রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলাও তিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে ও ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের নামে বিদেশে থাকা টাকা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি।

মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পদাধিকারবলে তিনি ছিলেন আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। ছাত্রজীবনে বাম আন্দোলনে যুক্ত মাহবুবে আলম পরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। অসম্ভব ধীশক্তির অধিকারী, অসাম্প্রদায়িক আদর্শের এই আইনজ্ঞ দেশের আদালত অঙ্গনে অনুকরণীয় উদাহরণ রেখে গেছেন। আমরা তাঁর চিরশান্তি কামনা করি।

 

মন্তব্য