kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আবার জঙ্গি হুমকি!

গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে জঙ্গিবাদের চর্চা দৃশ্যমান হয় দুই দশক আগে আত্মঘাতী বোমা হামলার মধ্য দিয়ে। শুরুর দিকে পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে, রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, ময়মনসিংহে সিনেমা হলে এবং আরো কিছু জায়গায় বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এরপর বাংলা ভাইয়ের উত্থান ঘটে। জঙ্গিরা সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটায় ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। এরপর কিছুদিন তাদের কর্মকাণ্ড থেমে ছিল। আবার তারা সক্রিয় হয় ২০১৩ সালে, একটু ভিন্নভাবে। ব্যক্তিবিশেষকে টার্গেট করে চাপাতি হামলা চালাতে শুরু করে তারা। কোথাও কোথাও আত্মঘাতী বোমা হামলার কৌশলও প্রয়োগ করা হয়। এ পর্বের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটানো হয় ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়। ওই হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জন নিহত হন। এরপর জঙ্গি নির্মূলে সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট ও জোরালো হয়। বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালায়।

সম্প্রতি জঙ্গি হানার বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে কারাবন্দি জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও কারাগারে চিঠি পাঠানোর ঘটনায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টিকে উড়োচিঠি বললেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয় বোধ হয় এটি নয়। ২০১৪ সালে নজিরবিহীন এক ঘটনায় পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে এক কনস্টেবলকে খুন করে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁরা তিনজনই জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। কারা সূত্রের বরাদ দিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত রবিবার কারা অধিদপ্তর থেকে কারাগারগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনাও রয়েছে। এ নির্দেশনার পর গত মঙ্গলবারের মধ্যে দেশের সব কারাগারে স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা হয়।

দুই দশক ধরে ইসলামের নামে জঙ্গিদের উত্থান সারা বিশ্বেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামিক স্টেট, আল-কায়েদা, হুজি, তালেবান ইত্যাদি নামে তারা একের পর এক নাশকতার ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের এসব হামলার শিকার হয়েছে মূলত নিরীহ মানুষ। বাংলাদেশেও তারা হুজি, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম—এমন সব নামে তৎপরতা চালিয়েছে। তাদের হামলায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে জঙ্গিদের তৎপরতা কমলেও তাদের অনেকেই নানা জায়গায় ঘাপটি মেরে রয়েছে। কাজেই আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখন আরো তৎপর হতে হবে। জঙ্গিদের নির্মূল করা না গেলে সামনে আরো বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা