kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঢাকার পাশের চার নদী

দ্রুত দখলমুক্ত ও নাব্য করুন

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার পাশের চার নদী

ঢাকার চারপাশে রয়েছে চারটি নদী—বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু। ছিল অর্ধশতাধিক খাল। এসব নদী ও খাল মিলে ঢাকা ছিল অপরূপা। অনেক খালই আজ নেই। যেগুলো আছে সেগুলোও ভাগাড়। নদীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। দখলে-দূষণে অন্তিম দশা। মাঝেমধ্যেই নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেগুলো দখল হয়ে যায়। নদী ভরাটে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা। নদীগুলোতে চার শতাধিক পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত পড়ছে কঠিন বর্জ্য ও পয়োবর্জ্য। অথচ এই নদীগুলো রক্ষার দাবিতে ঢাকাবাসী কয়েক দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে। উচ্চ আদালত থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা খুব কমই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ঢাকার চারপাশে থাকা চারটি নদীকে দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল সিএস (ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ, ২০১০ সালের ৩০ মে তারিখের মধ্যে পাকা খুঁটি (পিলার) স্থাপন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নদীর সীমানার মধ্যে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদসহ মাটি, বালু, ভাঙা ইট-সুরকি (গার্বেজ) অপসারণ, নদীগুলোকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা, ২০১১ সালের ৩১ মের মধ্যে নদীর উভয় তীরে হাঁটার পথ নির্মাণ ও গাছ লাগানো, নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় খননকাজ করা ইত্যাদি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা লিভ টু আপিল আবেদন পরের বছর খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর নদীগুলো দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছিল সরকারের সদিচ্ছার ওপর। সরকার কিছু কাজ করেছে; কিন্তু সেসব কাজের গতি এতটাই ধীর যে হাইকোর্টের আদেশের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হতে কত দশক লাগবে কেউ বলতে পারছে না। গবেষণার তথ্য বলছে, বুড়িগঙ্গা নদীর ২৩৭টি পয়েন্ট দিয়ে গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য এবং ২৫১টি পয়েন্ট দিয়ে পয়োবর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। তুরাগের ৮৪টি পয়েন্ট দিয়ে কঠিন বর্জ্য এবং ৪৮টি পয়েন্ট দিয়ে পয়োবর্জ্য এবং বালু নদের ৩২টি পয়েন্ট দিয়ে কঠিন বর্জ্য এবং ১০টি পয়েন্ট দিয়ে পয়োবর্জ্য পড়ছে। ঢাকায় গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে থাকে সিটি করপোরেশন এবং পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। সেই সঙ্গে নদীতীরে গড়ে ওঠা অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্যও নদীতে পড়ছে।

শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই নদীগুলোর অবস্থা শোচনীয়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শহরাঞ্চলগুলোতে। ব্যাপক আকারে নদী দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয় আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে। নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা নদী দখলের সঙ্গে যুক্ত হলে নদী দখল অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদী দখলমুক্ত ও নাব্য করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি। সরকার যে ডেল্টা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটির বাস্তবায়নও অসম্ভব হয়ে পড়বে যদি না নদীগুলো সঠিকভাবে দখলমুক্ত ও নাব্য করা যায়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা