kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

গত এক দশকে তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। এই খাতে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে নেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের পরিকল্পনা। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনেক পেছনে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায়ও বাংলাদেশের অবস্থান মাঝামাঝি পর্যায়ে। সম্প্রতি ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিটাল কম্পিটিটিভনেসের ‘ডিজিটাল রাইজার রিপোর্ট’-এ এমন চিত্রই উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ইএসসিপি বিজনেস স্কুল। প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপাল। ভারত রয়েছে বাংলাদেশেরও পেছনে।

এটা সত্য, তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি একেবারেই সাম্প্রতিক। আর এই ক্ষেত্রটি যেহেতু অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর, এ ক্ষেত্রে এগোতেও সময় লাগবে। ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং এ ক্ষেত্রে মেধাসম্পন্ন তরুণদের বেশি সংখ্যায় বেরিয়ে আসার ওপর এই খাতের সাফল্য অনেকটাই নির্ভরশীল। আবার কিছু ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আমাদের আরো ভালো করা উচিত ছিল; কিন্তু তা হয়নি। বর্তমান প্রতিবেদন তৈরিতে দেশগুলোর গত তিন বছরের ডিজিটাল প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে মূলত দুটি ভিত্তির মাধ্যমে। এর একটি হলো ইকোসিস্টেম, অন্যটি মাইন্ডসেট। প্রতিটির অধীনে রয়েছে পাঁচটি করে সূচক। ইকোসিস্টেমের অধীন পাঁচটি সূচক হলো পুঁজির সহজলভ্যতা, ব্যবসা শুরু করার খরচ, ব্যবসা শুরুর সময়, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কতটা সহজ, স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা। আর মাইন্ডসেটের অধীন পাঁচটি সূচক হলো : জনগণের ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্যোগের ঝুঁকিবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি, শ্রমশক্তির বহুমুখিনতা, মোবাইল ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রিপশন এবং কম্পানির উদ্ভাবনী আইডিয়া গ্রহণ। ইকোসিস্টেমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ চতুর্থ হলেও মাইন্ডসেটে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ভিত্তি বিবেচনায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতি কম নয়। কিন্তু এখানেই থামলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, বর্তমান বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির সক্ষমতায়। আমাদেরও সেই সক্ষমতা থাকতে হবে। এ জন্য আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। ব্যবসা শুরুর সময় ও খরচ বিবেচনায় শুধু তথ্য-প্রযুক্তি খাতই নয়, সামগ্রিকভাবেই বাংলাদেশ অনেক পেছনে। এর একটি বড় কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি। এ নিয়ে অতীতে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি তেমন হয়নি। এর আগে জাতিসংঘের ২০১৮ সালের ই-গভর্ন্যান্স সূচকে ৯ ধাপ এগিয়ে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছিল ১১৫। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের আগে ছিল শ্রীলঙ্কা, ভারত ও মালদ্বীপ। একই সঙ্গে ই-পার্টিসিপেশন সূচকে ৩৩ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ হয়েছিল ৫১তম দেশ। ই-পার্টিসিপেশন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের আগে ছিল কেবল ভারত। সাম্প্রতিক ডিজিটাল রাইজার প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার কারণগুলো অনুসন্ধান করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে চলার কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত সক্ষম জনবল ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরো বেশি করে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি লক্ষ রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রের কোনো দুর্বলতা বা অপব্যবহার যেন জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আমরা চাই, দু-এক দশকের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বিশ্বেই বাংলাদেশ একটি অনন্য নাম হয়ে উঠুক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা