kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

উত্তরাঞ্চলে আবারও বন্যা

দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করুন

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। অনেকে ঋণ করে নতুনভাবে ফসল ফলানোর আয়োজন করেছিলেন। তৃতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ে এখন তাঁরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩৫ সেন্টিমিটার। সিরাজগঞ্জ সদর পয়েন্টে বেড়েছে ৩৯ সেন্টিমিটার। বগুড়ার শহড়াবাড়ী ঘাট পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৫৬ সেন্টিমিটার। কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ধরলার পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তার পানিও বাড়ছে। কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী, উলিপুরসহ ৯টি উপজেলার শতাধিক চর প্লাবিত হয়েছে। প্রায় চার হাজার হেক্টর আমনের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

জুলাই ও আগস্ট মাসের দুই দফা বন্যায় সারা দেশই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে। ফসল নষ্ট হয়েছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মানুষকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার বন্যা। কমবেশি এমন ক্ষতি প্রায় প্রতিবছরই হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদীগুলোকে নাব্য করা না গেলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে। এর কারণ, আমাদের নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পানি নদী দিয়ে নামতে না পেরে দুই কূল প্লাবিত করা। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বর্ষায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যত পানি বঙ্গোপসাগরে যায়, তার ৯৫ শতাংশই আসে উজান থেকে। সেই পানি আটকানোর কোনো উপায় নেই। তাই বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার একটিই উপায় আছে, তা হলো, খননের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। কাজটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা করতে হবে ধাপে ধাপে। আশার কথা, বর্তমান সরকার উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সে কাজগুলো যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি নদীর পার রক্ষায়ও স্থায়ী উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ প্রতিবছর বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী দুই দফা বন্যায় দেশের কৃষককুল প্রায় সর্বস্বান্ত। ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টাও যদি এভাবে মার খায়, তাহলে তাঁদের বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বন্যা উপদ্রুত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হবে। বন্যা শেষে তাঁদের পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বন্যার স্থায়ী সমাধানের পথে আমাদের যেতেই হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা