kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুর্নীতিতে ডুবছে রেলওয়ে

তদন্ত সাপেক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা নিন

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতিতে ডুবছে রেলওয়ে

গৌরবময় অতীত ভুলে দুর্নীতিতে ডুবে মুখ থুবড়ে পড়তে বসেছে সেবা সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথ ও স্টেশন নতুন করে চালু করা হয়েছে। নতুন রেলপথ তৈরি হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে ট্রেনের সংখ্যা। সব মিলিয়ে রেলওয়েকে আধুনিক ও কার্যকর একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু দুর্নীতি রেলওয়ের পিছু ছাড়ছে না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত রেলওয়েতে দুর্নীতি শীর্ষক তিন দিনের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে একটি তালা কেনা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৫০ টাকায়। একটি প্লাস্টিকের বালতি কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে এক হাজার ৮৯০ টাকা আর সাধারণ মানের বাঁশি কেনা হয়েছে ৪১৫ টাকায়। ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। বেশ কিছু সামগ্রী কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব কেনাকাটা হয়েছে রেলওয়ের অনুমোদিত শিডিউল অব রেটস অনুসরণ না করে। বিধিবহির্ভূতভাবে যেমন অনেক মালপত্র কেনা হয়েছে, তেমনি একাধিক ক্ষেত্রে মালপত্র সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধের আয়োজনও করা হয়েছে। আবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনের মালপত্র কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩৩ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে কেনা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিবহন অডিট অধিদপ্তর রেলওয়ের বিভিন্ন মাল কেনাকাটাসহ অন্যান্য বিষয়ে নিরীক্ষা করে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে বেশি দামে মালপত্র কিনে সরকারের ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা তছরুপ করা হয়েছে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইচ্ছা করে বেশি দামে চুক্তি করে মালপত্র কেনা হয়েছে। বিধিবহির্ভূতভাবে কেনা হয়েছে অনেক মাল। একাধিক ক্ষেত্রে মালপত্র সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের নিজস্ব সুদক্ষ প্রকৌশলী, ইঞ্জিনিয়ারিং কোড এবং ওয়ে অ্যান্ড ওয়ার্কস ম্যানুয়ালের পাশাপাশি সুদক্ষ লোকবল এবং সুনির্দিষ্ট ও সঠিক নির্দেশনা থাকার পরও পরামর্শক নিয়োগ করে দেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকার বিল। নিয়ম না মেনেই পরিশোধ করা হয়েছে নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ৩১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিল। ১১টি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কেনা মালপত্র সরবরাহ না করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। পশ্চিমাঞ্চলের মতো রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলেও হয়েছে পুকুরচুরি। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, অভিনব সব কায়দা বেছে নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সরকারের কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে কবে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য