kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মানবসম্পদ সূচকে অর্জন

সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব ধরনের উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। সেদিক থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের সব উন্নয়নপ্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ধরেই এগোচ্ছে। ২০১৮ সালের পর চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো মানবসম্পদ সূচক প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেখানে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে নিচের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৫২তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিচে রয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের অর্জন ৪৬ শতাংশ, এর অর্থ আজকে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে, তার কর্মক্ষমতাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানোর সম্ভাবনা ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে বৈশ্বিকভাবে একটি শিশুর কাজে লাগার সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ। একটি শিশু জন্মগ্রহণের পর থেকে তার নিজ দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ কতটুকু পাচ্ছে এবং সেটিকে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে, তার ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি শিশু জন্মের পর থেকে ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৯৭ জনই পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো। শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়া ও বের হওয়ার সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে স্কুলে শেখার মান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে শেখার মান সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৩৬৮। যেখানে ৬২৫ স্কোর হলো ভালো মানের। আর ৩০০ হলো সর্বনিম্ন স্কোর। খর্বাকৃতির সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জন শিশু খর্বাকৃতির। এই সংখ্যা উদ্বেগের।

আমাদের সমস্যার অন্ত নেই। উন্নয়নের প্রধান শর্ত অবকাঠামো উন্নয়নের দিক থেকে এখনো আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলা যাবে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অসহনীয় যানজট মানুষকে হতাশই করে। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর অবস্থান আরো পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশকে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে মানবসম্পদ উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশিত আয়ু ও উৎপাদনশীলতায় আমাদের অবস্থান বৈশ্বিক বিবেচনায় এখনো অনেক পিছিয়ে। দ্রুত আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে হবে। সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা