kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি

রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে হবে

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি

একসময় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ আগের অবস্থায় না থাকলেও দেশ থেকে দুর্নীতি যে পুরোপুরি দূর করা যায়নি, তা মানতে হবে। সরকারের সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা আদৌ কি গড়ে তোলা গেছে? প্রাসঙ্গিকভাবে কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরটি আলোচনায় আসতে পারে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, সরকারি কেনাকাটায় কাগুজে দরপত্রে অংশগ্রহণ নিয়ে মারামারি, গোলাগুলি, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে এখন থেকে ৯ বছর আগে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। উদ্দেশ্য ছিল, সবাই যাতে দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে; একই সঙ্গে দুর্নীতির পথ যাতে বন্ধ হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ—টিআইবি ‘সরকারি ক্রয়ে সুশাসন : বাংলাদেশে ই-জিপির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ই-জিপির ফলে ক্ষেত্র বিশেষে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়লেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাজের মানোন্নয়নে কোনো প্রভাবই পড়েনি। ই-জিপি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং কার্যকারিতার মতো তিনটি মৌলিক ক্ষেত্রেই অবস্থান উদ্বেগজনক। এর পেছনে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা এবং নিজেরা কাজ না করে কম্পিউটার অপারেটরদের মাধ্যমে মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করানোর ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া নম্বর বাড়িয়ে-কমিয়ে আনুকূল্য দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অফিস কর্মকর্তার মাধ্যমে ঠিকাদারদের রেট শিডিউল জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। লিমিটেড টেন্ডার মেথডে (এলটিএম) কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ঘুষ আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ই-জিপিতে সরকারি কেনাকাটার প্রক্রিয়া সহজ হলেও কার্যাদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো রাজনৈতিক প্রভাব প্রকট।

টিআইবির এই গবেষণা প্রতিবেদন আমাদের কয়েকটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নির্মিত ভবনে কেজিখানেক ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেতলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতেই খরচ দেখানো হয় প্রায় তিন হাজার টাকা। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় প্রায় হাজার টাকা করে। চট্টগ্রামে নতুন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ৭৫০ টাকার বালিশ ক্রয়ে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল ২৭ হাজার ৭২০ টাকা, আর বালিশের কাভারের দাম ধরা হয়েছিল ২৮ হাজার টাকা। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম ১৮৬ গুণ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে সরবরাহ করে এমন খবর আসে পত্রিকান্তরে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, ই-জিপিকে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেটের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে হলে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও জনগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যাবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। আমরা মনে করি, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে কার্যকর ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো সুশাসনের অভাব। দুর্নীতি রোধের ক্ষেত্রে অগ্রগতি করতে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। এ জন্য যে বিষয়টি জরুরি তা হলো, রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

 

মন্তব্য