kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মাছ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণ

ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কয়েক দশক আগেও স্বাদু পানির মাছের প্রজাতির দিক থেকে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে এক নম্বর। এত ছোট জায়গায় এত বেশিসংখ্যক প্রজাতি আর কোনো দেশেই ছিল না। জানা যায়, স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশে স্বাদু পানির পাঁচ শতাধিক প্রজাতির মাছ ছিল। আর এখন প্রজাতির সংখ্যা নেমে এসেছে দু শরও নিচে। এর প্রধান কারণ নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং জলজ পরিবেশদূষণ ও প্লাবনভূমি নিয়ন্ত্রণের ফলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়া। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত আহরণ তো আছেই। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চাষযোগ্য কিছু প্রজাতি ছাড়া মাছের বাকি প্রজাতিগুলো হারিয়ে যেতে পারে। আশার কথা, বিষয়টি উপলব্ধি করে দেশে মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ’ শিরোনামের এই প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশজ যা কিছু আছে, উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রত্যেকটাকে আমরা সংরক্ষণ করব। শামুক নিয়ে প্রকল্প আছে, ঝিনুককেও আনতে হবে। কাঁকড়াকেও আনতে হবে। বাংলাদেশের যা প্রাণিজ, জলজ সম্পদ আমাদের আছে, প্রত্যেকটা আইটেমকে কাজে আনতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আমাদের আশ্বস্ত করছে।

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। এর একটি প্রধান অংশ আসে ইলিশ আহরণের মাধ্যমে। মিঠা পানির যেসব মাছ উৎপাদিত হয় তার একটি বড় অংশ আসে পুকুরের চাষ থেকে। খাল-বিল বা নিচু জমিতে কিংবা বর্ষার পানিতে একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। মাছের সেই প্রাচুর্য এখন নেই বললেই চলে। এর কারণ খাল-বিল মজে যাওয়া বা ভরাট হয়ে যাওয়া। অনেক মাছ আছে, যেগুলো নদীতে থাকে; কিন্তু বর্ষায় প্লাবনভূমিতে প্রবেশ করে প্রজননের জন্য। একইভাবে প্লাবনভূমি থেকে সেসব মাছ একসময় নদীতে চলে যায়। মাছের জীবনচক্র ব্যাহত হওয়ার কারণেও মাছের প্রজাতি ও পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মাছ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণ ও তাদের উৎপাদন বাড়াতে হলে এ সমস্যাগুলো অবশ্যই দূর করতে হবে। একই সঙ্গে জলজ পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। কলকারখানা ও গৃহস্থালি বর্জ্যের পাশাপাশি সার-কীটনাশকও নিচু জমি বা জলাশয়ের পরিবেশ ধ্বংস করছে। এ ক্ষেত্রে সার-কীটনাশকের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

দেশজ মাছ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন তা সময়ের দাবি। শুধু একটি বা দুটি প্রকল্প দিয়ে তা করা যাবে না। এ জন্য মৎস্য, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা জরুরি। আমরা চাই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র সমৃদ্ধ ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা