kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর শুভ উদ্যোগ

উন্নত হোক প্রাথমিক শিক্ষার মান

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর শুভ উদ্যোগ

দেশ ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০টি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই বিশেষ উদ্যোগগুলো হচ্ছে—একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা। দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া ১০টি বিশেষ উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের সুফল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক স্তর থেকে শিশুদের ঝরে পড়ার হার ক্রমেই কমছে। আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি দিত সরকার। ২০১৫ সাল থেকে কয়েকটি শর্তে ছাত্রীদের সঙ্গে সব ছাত্রকেও উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। দেশে সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করা ও ঝরে পড়ার হার কমাতে শিশুদের বিনা মূল্যে বই বিতরণ, ছাত্রীদের পর ছাত্রদেরও উপবৃত্তি প্রদান, স্কুলে বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা, দুপুরে খাবার দেওয়াসহ বেশ কিছু কার্যক্রম চালু রেখেছে সরকার।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রতিবছর বিনা মূল্যে বই বিতরণ করা হয়। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারির বই উৎসবের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়ার প্রস্তুতির কাজ চলছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে নতুন বছরের শুরুতেই এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে এক হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা এ টাকা দিয়ে কাপড়চোপড়, টিফিন বক্স ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চিঠিতে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এ টাকা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে পাঠানো হবে। প্রকল্পের টাকা থেকেই এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ছাড় করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এখন শিক্ষার মান উন্নয়নেও আমাদের মনোযোগী হতে হবে। প্রতিবছর সমাপনী পরীক্ষার যে ফল প্রকাশ করা হয়, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, মানের দিক থেকে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিস্তর ফারাক। অনেক এগিয়ে আছে শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সেগুলোর মানও সবখানে সমান নয়, বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কারণ অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়েই মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব আছে। উপযুক্ত ভবন নেই, আসবাব বা শিক্ষা উপকরণ নেই বললেই চলে। এসব দিকে দৃষ্টি দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা