kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

জাতীয় শোক দিবস

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে

১৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয় শোক দিবস

আজ জাতীয় শোক দিবস, বাঙালির হৃদয়ভাঙা শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। যিনি তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালির মুক্তির জন্য, বাঙালির স্বাধিকারের জন্য—এই রাতে তাঁকেই জীবন দিতে হয়েছিল কিছু কাপুরুষের হাতে। শুধু তাঁকে নয়, সেদিন হত্যা করা হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় থাকা তাঁর পরিবারের সবাইকে, এমনকি তাঁর শিশুসন্তানটিকেও। সেই রাতে সেনাবাহিনীর একটি দলছুট অংশ এই হামলা চালালেও তার পেছনে ছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের এক গভীর ষড়যন্ত্র। ইতিহাস ক্রমে তা স্পষ্ট করছে। তাদের সেই ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। হয়তো চলতেই থাকবে।

সদ্যঃস্বাধীন দেশটিতে তখন চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল শুধুই ধ্বংসস্তূপ, পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার ছাপ। রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য। ছিল না দক্ষ প্রশাসন। এরই মধ্যে পাকিস্তান কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ থেকে রক্ষা পেয়ে বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। শুরু করেছিলেন দেশ গঠনের নতুন সংগ্রাম। মাত্র সাড়ে তিন বছরে পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করে দেশকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক তখনই হায়েনারা রাতের অন্ধকারে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। বাহ্যত দলছুট কিছু সেনা সদস্যকে কাজে লাগালেও পেছনে ছিল অনেক বড় নীলনকশা। ব্রিটিশ সাংবাদিক মাসকারেনহাসসহ অনেকেই তুলে ধরেছেন সেই ষড়যন্ত্রের অনেক অজানা কথা। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে কবে, কখন ঘাতক রশীদ বৈঠক করেছিলেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। খন্দকার মোশতাক ও একটি প্রভাবশালী দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত কিভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়েছিলেন—অনেক কিছুই স্পষ্ট হয় পরবর্তী ঘটনামালা থেকে। রাষ্ট্রদূত বানিয়ে ঘাতকদের পুরস্কৃত করা, ইনডেমনিটির ঘোষণা দিয়ে খুনিদের বিচার রোধের অপচেষ্টা, স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করা, একাত্তরের ঘাতক আব্দুল আলীমসহ রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রী করা, গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা—এমন অনেক ঘটনাই প্রমাণ করে পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্রে কারা যুক্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করলে প্রচলিত আইনে হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। বৈচারিক প্রক্রিয়ায়ও উঠে আসে ষড়যন্ত্রের নানা দিক। বিচারের রায় অনুযায়ী কয়েকজন খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিছু খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে সম্পূর্ণরূপে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

জাতীয় শোক দিবসে আমাদের শপথ হোক, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা আন্তরিকভাবে তৎপর হব। স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সব ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নেব। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী এবং মদদদাতাদের’ চিহ্নিত করে বিচারের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘কমিশন’ গঠন করার দাবিও এখন প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা