kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

শেয়ারবাজারে গতি

স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে হবে

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশের পুঁজিবাজারে গতি এসেছে। করোনা সংক্রমণের কারণে যে মন্দাবস্থা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। করোনার প্রভাবে তলানিতে নেমেছিল পুঁজিবাজার। বিপর্যয়ের শঙ্কা কাটছে, মন্দাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছে, সূচকে বড় উত্থানের সঙ্গে লেনদেনও চাঙ্গা হয়েছে।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বুধবার মূল্যসূচকে সেঞ্চুরি হয়েছে। লেনদেন এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রবিবার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আধাঘণ্টা বাড়িয়ে লেনদেন শুরু হলে মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়। সোমবার বাজার সংশোধন হয়। মঙ্গলবার জন্মাষ্টমীতে বাজার বন্ধ ছিল। বুধবার আবার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ১০০ পয়েন্ট আর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সোমবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৪৮ কোটি আট লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ১২ পয়েন্ট। বুধবার সূচকের সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে।

করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন পুঁজিবাজার বন্ধ ছিল। এ সময়ে বিনিয়োগকারীরা বাজারবিমুখ হয়েছিল। তখন অব্যাহত বিক্রির চাপে তলানিতে নামছিল পুঁজিবাজার। তাদের চাহিদার নিরিখে চার ঘণ্টা লেনদেনের পরিবর্তে আধাঘণ্টা বাড়িয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা করা হয়। সময় বাড়ায় লেনদেন বাড়ছে। গতি পাচ্ছে পুঁজিবাজার। ডিএসইর হিসাবে, চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে মূলধন বেড়েছে ১৮ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ায় বাড়ছে শেয়ারের দাম। প্রতিদিন বাড়ছে বাজারের মূলধন। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবারে মূলধন বেড়েছিল ১১ হাজার কোটি টাকা আর বুধবার মূলধন বেড়েছে ছয় হাজার ৮০২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সেদিন লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপ থাকায় সূচক বাড়ে। প্রথম আধাঘণ্টায় সূচক বাড়ার পর শেয়ার বিক্রির চাপ কিছুটা বাড়লে সূচক নিম্নমুখী হয়। সকাল সাড়ে ১১টার পর আবার শেয়ার কেনা বাড়লে দুর্দান্ত গতিতে সূচক বাড়তে থাকে। বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনশেষে সূচক দাঁড়ায় ৪৬৩৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমলেও সূচক বেড়েছে।

বলা হয়, পুঁজিবাজার বাজার অর্থনীতির দিগ্দর্শনযন্ত্র। জাতীয় অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির অনেকটাই বোঝা যায় এর সূচক দেখে। বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে বেশ স্বস্তি মিলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের শেয়ারবাজার খুবই অস্থির। এর ‘স্বাভাবিকতা’ নিশ্চিতকরণে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতার বিকল্প নেই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা