kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

বিতর্কিত ব্যক্তিকে কাজ

পরিচয় খতিয়ে দেখা উচিত

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশকাণ্ড’ রীতিমতো উপকথায় পরিণত হয়েছে। এই উপাখ্যানে কেন্দ্রের আবাসিক ভবনে একটি বালিশ ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা, বালিশের দাম পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক চুলা ভবনে ওঠানোর খরচ ছয় হাজার ৬৫০ টাকা। একটি টেলিভিশন ভবনে ওঠানোর খরচ সাত হাজার ৬৩৮ টাকা। এমন হিসাব-নিকাশ উপাখ্যান বা উপকথা ছাড়া আর কোথাও পাওয়া মুশকিল।

এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন ঠিকাদার শাহাদাত হোসেন। তাঁর এই কাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছিল। দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিনি এখন জেলে। তাঁর সঙ্গে জেলে রয়েছেন আরো ১২ জন। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন এন্টারপ্রাইজকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সমস্যা হচ্ছে, এসবের কিছুই তাঁকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। জেলে বসেই তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের জন্য বাগিয়ে নিয়েছেন বড় কাজ। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকার উন্নয়নকাজের বেশির ভাগ তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন। সাজিন এন্টারপ্রাইজকে কালো তালিকাভুক্ত করায় তিনি কৌশল বদল করেন। সেই কৌশলে কাজ বাগিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর আরেক প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে দুটি ভবন নির্মাণের ৮৭ কোটি টাকার কাজ দিচ্ছে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা করতে গিয়ে সর্বনিম্ন দর প্রস্তাবকারীকে বঞ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্ষুব্ধ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রকল্প কর্মকর্তা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

গত মার্চে ১৭টি ভবন নির্মাণসহ মোট ৩১টি কাজের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মোট ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজের জন্য অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। ১০ তলা ছাত্রী হল নির্মাণের দরপত্রে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের দরপত্রে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসব দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে অগ্রাহ্য করে সাজিন কনস্ট্রাকশনকে কাজ দেওয়া হয়েছে। শুধু এ দুই কাজই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের প্রায় পুরোটাই শাহাদাতের সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাবসায়িক কাজে সুনাম বড় বিবেচ্য বিষয়। আস্থাহীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া যায় না, এটা কাণ্ডজ্ঞান। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী বিতর্কিত এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানকে কী করে কাজ দেওয়া হলো—এ প্রশ্নের জবাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেবে কি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা